সভ্যতার চরম শিখর না অসভ্যতার গহবর

January 31, 2006

আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে আজ মোটামোটি একটা ছোট খাটো ঝগড়া হয়ে গেল।বেচারা শেষ পর্যন্ত রেগে আমাকে বলে বসলেন তোমার সাথে কথায় পারবোনা। তুমি এই যুগের ছেলে আমার কোন কথা তুমি মানবেনা। একটু আশ্চর্য হলাম বলে কি বেটা (মনে মনে)? আমার কথা ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করতে যাওয়াটা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য এবং এতে সমাজ সভ্য হয় না অসভ্য হয়তার সাথে আমরা আসলে কি সভ্য সমাজে আছি।

জাহেলিয়াত যুগে নেতা নির্বাচন করা হতো নেতার বিশেষ বিশেষ গুণের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ বংশ বয়োজেষ্ঠতা, বিচক্ষনতা, সাহসিকতা, ব্যাক্তিত্ব, কাব্যানুরাগ ইত্যাদীর। প্রত্যেকে নেতার আনুগত্য স্বীকার করতো। যে কোন মূল্যের বিনিময়ে নিজ গোত্রের প্রাধান্য এবং দেশের স্বাধীনতা বজায় রাখতো। তবুও সেই যুগকে আমারা জাহেলিয়াত বলি। কিন্তু সেই নেতা নির্বাচন পদ্ধতির পাশা পাশি তারা যারা সভ্যতার শিখরবাসী বলে দাবী করে, তারা কি করে?

তাদের নেতা নির্বাচনের প্রথম ভিত্তিই হলো হূজগ। তার পর চলে মালপানির বিনিময়ে ভোট বেচাকেনার হিড়িক। আমাদের দেশে নির্বচনে ভোটারেরও দরকার পরেনা। একজনকে সীল এবং ব্যালট দিয়ে বসিয়ে দিলেই চলে। এক প্যাকেট কমদামের সিগারেটের মূল্যে অথবা মুরগীর মূল্যে ভোট বিক্রয় করতে দেখা গেছে। মফিজুর রহমান এবং জাদুব বাবুকে কবর এবং শ্মশান থেকে উঠে এসে ভোট দিতে দেখা গেছে। একই মহিলা এবং পুরূষকে একাধিক বার ভোট দিতে দেখা গিয়েছে তার মানে দাড়ালো মহিলাটির একাধিক স্বামী এবং পুরূষগুলোর একাধিক পিতা। এই হচ্ছে আমাদের নেতা নির্বাচনের জন্য ভোটারের গুনাবলী।

নেতাদের যোগ্যতার কথা বলতে গেলে তো মাশাআল্লাহ বহু ক্ষেত্রে কলাগাছ কিংবা মাদার গাছ। আমার স্পষ্ট মনে (আমার এলাকাতে) আছে আজকের পরাজিত শক্তি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্য বলে ছিলো যদি কলাগাছ দাড় করানো হয় পাশ করাতে হবে। আর জনগন ভালই শ্লোগান দেয় অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র। কিন্তু ফুলের নামটা বাদ দিয়ে যায়। জাহেলিয়াত যুগে নেতা নির্বাচন এবং সভ্যদের নেতা নির্বচনের তুলনা করা কি ভূল? মোটেও না। তার পরেও কি বলা ঠিক হবে জাহেলিয়াতর চেয়ে তারা বেশী সভ্য। সেই আমলে তারা নিজেদের বংশ কিংবা গোত্রের আধিপত্বএবং স্বাধীনতা যে কোন মূল্যে বজায় রাখতো, আর সভ্যতার ধ্বজধারীরা? তারাতো পারলে সবকিছু দিয়ে দেন। বেরূবাড়ী হাটতে পারলেও নিজেদের বলতে পারিনা। পার্বত্য চট্টগ্রামতো আনেকটা সাফ কেবালা করেই দিয়েছেন তারা। আমার মনে হয় যদি দেশের জমিন ঝুড়িতে তুলা সম্ভব হতো তাহলে চোরা চালানীর মাধ্যমে তাও বিক্রয় করা হত। সেই যুগের নেতারা মনে হয় আজকের সভ্যদের মতো জাহেল ছিলো না। তারা দিনের বেলাতে দেশ প্রেমের বুলি ছুড়ে আর রাতের অন্ধকারে সোনা দানা পাচার করে। নির্বাচন মন মতো না হলে একবার সুক্ষ্য অন্যবার স্থুলো কারচুপীর কথা তুলে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের মতো জাহেলিয়াতের সময় নিশ্চয় ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করা হয়নাই। তারপরও কি বলা চলে তাহারা সভ্য? আর এই সভ্যরা যদি নেতা হয় তাহলে সমাজ সভ্য কোনদিন সভ্য হতে পারবেনা। কথাগুলো শুধু আওয়ামী লীগ নয় বি এন পির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তার মানে কি এই নয় শুধুমাত্র সংখ্যাগড়িষ্ঠতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন গ্রহনযোগ্য নয়। এবং এতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এবং এর দ্্বায়ভার সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই নিতে হবে।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:৩৯


কুশিক্ষিতদের জন্য শিক্ষা- 1

January 29, 2006

আমার সংস্কৃতির ব্যাখ্যা কিছু কুশিক্ষিতদের পছন্দ হলোনা তারা ডিকশোনারী নিয়ে বসে গেলেন আমাকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য। ভালো কথা সমস্যা নেই। ডিকশোনারী ওয়ালাদের কিছু কথা বলতে আগ্রহী হলুম। তবে জ্ঞান দেয়ার জন্য নয় এদের শিক্ষা যে দেখানো শিক্ষা এবং শুধু বিরোধিতা করার জন্য এটা তুলে ধরা আরকি। মূল কথা এরা যে কুশিক্ষিত এটা বলার জন্যই লেখা।

আমার মাথাতে ঢুকেনা যখন ইংরেজীতে বলা হয় // ম্যান ইজ মরটাল// তখন রাসেল সাহেবেরা কি খুজে বেড় করতে পারবেন এটা কি পুরূষ মরণশীল নাকি মানুষ মরণশীল। আশ্চর্য ইংরেজী এবং আশ্চর্য বৈয়কারনিক সমাধান। ম্যানের বাংলা তরজামা কিভাবে যে রাসেল সাহেবরা মানুষ বানালেন বুঝলাম না। মহিলারা কিছু বলতে যেন না পারে এজন্য? এধরনের বাক্যের কথা না হয় বাদ দিলাম। বাংলা ব্যাকরণে বিশেষ্যের প্রথম অংশ পুরূষবাচক কিন্তু শেষাংশে স্ত্রীবাচক। মেনে নিলাম পরিচিতির কারনে এমন করা হয়েছে। কিন্তু এসব বিশেষ্য দিয়ে বাক্য রচনা করতে গেলে বিশেষণও যে বিগড়ে যায় আমার আপত্তি সেইখানেই। বিদ্্বান পুরূষ বলতে পারলেও বিদ্ধান মহিলা বলতে পারছিনা। মহিলার আগের বিশেষণ বিদ্ধানকে না বসিয়ে বিদ্ধানের চেহারা পালিটয়ে বিদুষী বানিয়ে সম্মান দিতে হচ্ছে। নরেরা সুন্দর, নারীরা সুন্দরী। এই বাক্যের সুন্দর বিশেষণটা ‘নর’ এর পরে যোগ হলে ‘নর’ এবং ‘সুন্দর’ উভয়ই বিশেষ্য হয়ে নরকে ‘নর সুন্দর’ খেতাব দিতে হচ্ছে। বিশেষণেও একই অবস্থা। বৈয়াকরণিকদের আজব এই ব্যবস্থা। বাংলা ব্যকরণে সর্বনাম নিয়ে তেমন কোন দ্্বন্দ নেই কিন্তু ইংরেজীতে ‘হি’ ‘শি’ এং ‘হিজ’ ‘হার’ পৃথক পৃথক সীমানা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটা নিয়ে বেশ গোলমাল বাধে। কোথায় যেন দেখেছিলাম “শী এন্ড হি টেইলার্স”। বাংলা ভাষাতে এর সুন্দর অনুবাদ করা যায়না। তবে আঞ্চলিক ভাষাতে তরজমা করা যায় “হেতী এবং হেতা দর্জিখানা”।

উদর্ূ, আরবী, ফ্রেঞ্চ ভাষাতে নর-নারীর ঝামেলা প্রচুর। এগুলো ভাষাতে ক্রিয়াপদকেও নারী বা পুরূষে রূপান্তর করা হয়েছে।

কুশিক্ষিতরা ব্যপারগুলো ধরতে না পেরে তাল গোল পাকিয়ে ফেলেছে। অভিধান থেকে হি এবং শি এর বাংলা বের করতে না পেরে সমাজের এমন হাল করেছে কুশিক্ষিতরা যে বর্তমান সমাজের উচ্চ বিত্ত এবং মধ্য বিত্তের মধ্যে কণ্ঠস্বর ছাড়া বোঝার উপায় নেই কে নর এবং কে নারী।

আভিধান এবং ব্যাকারণ নিয়ে যদি ব্যাখ্যা ছাড়া আক্ষরিক অনুবাদ করতে যান অপদস্ত হতে হবে। যেমন একটি সুধী সমাবেশে আপনি ভাষণ দিতে গিয়েছেন যেই সমাবেশ প্রিসাইড করছেন এক মহিলা। আপনি ভাষণের শুরূতে সম্মোধন দিয়ে যে সূচনা করবেন তা কি হতে পারে একবার ভেবে দেখেছেন আপনাকে কি বলতে হবে। বলতে হবে মাননীয়া সভাপত্নী। জুতা একটাও মিস হবেনা। এতো গেল ব্যাকরণ নিয়ে। অভিধান খুজে অর্থ বের করতে গেলে আমি নিশ্চিত মারা পরবেন। দুই বন্ধু বসে গল্প করছে এরই মধ্যে বাইরে গোলাগুলি হচ্ছে এক বন্ধু বলে বসলো //ওয়াচ আউট! // 2য় বন্ধু ইংরেজীতে কাচা অভিধান এর অর্থ মতো বেচারা বাইরে তাকালো তার মাথার এক পাস দিয়ে গুলি ঢুকবে উন্য পাস দিয়ে বেড়ুবে। এখন ঐ সব শিক্ষিত বন্ধুরা যদি আভিধান এবং ব্যাকারণ খুজে অর্থ বেড় করতে যান তাদেরকে আমি অশিক্ষিত ছাড়া কি বলবো বুঝে পাইনা। ভূল স্বীকার না করে ভিত্তিহীন কথা বলে। লেখার মর্মনা বুঝে ইতিহাস টানেন এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে ভুল প্রমাণের জন্য আবোল তাবোল বকে যান তারা যে কুশিক্ষিত এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এরা নিজে জানেনা এবং উন্যজন জানে এটা স্বীকার করেনা। এরা সমাজে বর্নচোরার মতো থেকে ক্ষতি করে যায়।

এক ভাষার সাথে অন্য ভাষার স্বয়ং সম্পূর্ন অর্থ আনা জটিল। আবার এর মধ্যে যদি কালচার জিনিষটা ঢুকান তাহলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হবে।

একটা ছোট খাটো কৌতুক করি। 5ই সেপ্টেম্বর 1996 ফার ইর্ষ্টান ইকোনমিক রিভিউ পত্রিকাতে একটি খবর ছাপা হয়েছিলো। শিরোনাম ছিলো // দ্যা লেডী ইজ এ স্যার// সাথে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার ছবি চাপা হয় এবং ক্যাপশনে নাম লেখা থাকে হাসিনা ওয়াজেদ। যদিও তিনি তার নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাননা যাক সে কথা। রিপোর্ট ছিলো শেখ হাসিনা সরকারী ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন তাকে স্যার সম্ভোধন করতে হবে। এর পর থেকে প্রচার মাধ্যমে তাকে স্যার বলা হচ্ছিলো এবং মাননীয়ার স্থানে মাননীয় বলা হচ্ছিলো। নিজে কালচার ঠিকিই চেঞ্চ করলেন কিন্তু একই সাথে ব্যাকারণের আরো অনেক পরির্বতণ আনতে হবে। ইংরেজীতে রিপোর্ট করার সময় তার ‘শী’ এবং ‘হার’ সর্বনাম শব্দগুলো বাদ দিয়ে কি বাক্য রচনা করা যাবে? যাই হোক //দ্যা লেডী ইজ এ স্যার// আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করি এই পরিবর্তন যেন অফিসিয়াল থাকে, বায়োলজিক্যাল না হয়।

তাই রাসেলদের বলছিলাম যা পড়বেন বুঝে শুনে পড়বেন যা বলবেন বুঝেশুনে বলবেন। শুধু বিরোধীতার কারার জন্য “মে মে” “ভ্যা ভ্যা” করবেন না। আর মনে রাখবেন জ্ঞানী কখনো বলেনা আমি জ্ঞানী তাই সারর্মম এবং ব্যাখ্যা না বুঝে অযথা ইতিহাস টানা থেকে বিরত থাকুন। আর সংস্কৃতি এবং কালচার যদি এক করতে জান তাহলে আপনাদের বায়োলজিক্যাল চেঞ্জাটও মনে হয় আমাদের দেখে যেতে হবে। আমাদের যেন এটা দেখে যেতে না হয়। আল্লাহ আপনাদের জ্ঞান দাণ করূণ। আমিন

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮


ফিলিস্তিন থেকে বাংলাদেশ

January 28, 2006

হোসেম আল তাওয়াল 40 বছর বয়স্ক অর্থোডক খৃষ্টান। তিনি সমাজ সেবক হিসেবে দীর্ঘ 30 বছর গাজা উপত্যকায় নিরলস কাজ করে গেছেন। তিনি ফিলিস্তিনে দৈনিক আল-কুদস পত্রিকাতে নিয়মিত কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। তার দাদা 1948 সালে ফিলিস্তিন সরকারের একজন জেনারেল সদস্য ছিলেন।

হোসেম আল তাওয়াল ঐক্য, দেশ, ন্যায় বিচার এবং স্বাধীনতার জন্য হামাসে যোগ দিয়ে এক অভিণ্য লক্ষ্যে (স্বাধীনতা) কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনে 6টি খৃষ্টান অধু্যষিত এলাকার একটিতে এবার হামাস তাকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছিলো। তার হামাসের সাথে জড়িত হবার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন (অংশ বিশেষ)ঃ

1। আমার কাজ শুধু খৃষ্টান সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় আমার কাজ ফিলিস্তিনিদের নিয়ে। ফিলিস্তিনিদের সাধারণ কিছু চাওয়া আছে সে গুলোর জন্য আমার লড়াই যেমন আধিকার, স্বাধীনতা, দূর্নিতী দমন।
2। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা একটি রাজনৈতিক সমস্যা আর এই সমস্যাটি আমার ধর্মের সাথে বিরূদ্ধাচরণ করেনা।
3। আমরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করাছি।
4। হামাস আক্রমণ করে (বোমা হামলা) কিন্তু সেটা সন্ত্রাসী কাজ বলা হয় যা ঠিক নয় কিন্তু যখন এফ-16 বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগনকে মারা হয় তখন এটা সিকিউরিটি অপারেশন বলা হয়। আমি এই দ্্বৈত নীতির বিরোধিতা করছি মাত্র।

এই হলো ফিলিস্তিন এবং হামাস। কিন্তু আমাদের কাউবয় তা মানতে নারাজ। হামকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন ত্রান সহয়তা ব্যাপারটা আবার বিবেচনা করবেন। ঐ হলো আরকি সরাসরি তো বলতে পারেনাতো ধরে নিতে হবে ত্রান দেয় হবেনা। আমেরিকা এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কথা মতো হামাস নির্বাচনে আংশ নেয় কিন্তু নির্বাচনে জয় লাভের পর তারা বলেন ইসলামিক জঙ্গী গোষ্ঠী হামাসের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হলে ত্রান সহয়তা পূনরায় বিবেচনা করবেন। ইসরাইলতো আলোচনায় বসতেই নারাজ। কেন এই দ্্বৈত নীতি?

হামাসকে ইসলামিক জঙ্গী গোষ্ঠী বলে কাউবয় এবং ইসরাইলীরা। আরে ভাই এখানে কেমন করে ইসলামিক শব্দটা ঢুকলো বঝলামনা। যে দল খৃষ্টান প্রার্থী রাখে, খৃষ্টানদের ভোট পেয়ে জয়ী হয় সেই স্বাধীনতাকামী দলটির টাইটেল কিভাবে ইসলামি জঙ্গী হয়? আমাদের দেশেও কাউবয়ের কিছু চামচা আছে তারাও জঙ্গী খুজে বেড়ান কিছু হলেই ইসলামী জঙ্গী টাইটেলটা বলতে মুখে বাধেনা। বিশেষ কিছু গোত্রের লোক আবার আলোর উপরে নিচে খোঁজা খোঁজি আরাম্ভ করে দেন। তারা এখানে আবার ঠুনকো যুক্তি দেয় তারা ধ্বংসের মাধ্যমে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় তাই তারা ইসলামী জঙ্গী। যাক যুক্তির খাতিরে মেনে নিলাম (একফোটাও মানিনা) তারা ইসলামিক জঙ্গী। হিটলার এবং বুশ দুইজনই বলেছেন তারা ইশ্বরের কাজ সম্পন্ন করছে। এখন আমি যদি হিটলারকে এবং বুশকে খৃষ্টান জঙ্গী বলি তাহলে কি আমার দোষ হয়ে যাবে? তারা লাদেনকেও ইসলামী জঙ্গী বানিয়ে দিলেন। আরে বাবা সে করলো সন্ত্রাসী আক্রমণ (প্রমানিত নয়) ইসলাম শব্দটি সন্ত্রসীর আগে বসলো কেন? মুসলমানদের তারা কাগজে কলমে এবং বাস্তবে এই ভাবেই হেয় কারার চেষ্টায় লিপ্ত। আমি যদি বলি হিন্দু সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মুদি তাহলে দোষ হয়ে যায়, সত্যিই আশ্চর্য। কেন এই দ্্বৈত নীতি।

আমাদের দেশেও পাড়াতে পাড়াতে, রাস্তা ঘাটে আড্ডাবাজ বখাটে পোলাপান আছে যাদের প্রধান কাজ হলো মেয়েদের দেখে শিষ এবং টিটকারী দেয়া। এবং পাড়ার বড় ভাইয়ের কিংবা কমিশনারের হয়ে মিটিং মিছিল এর সময় শ্লোগণ দিয়ে নিজেদের মক্তুমনা হিসেবে পরিচিত করে। যাদের দেখতে পারেনা তাদের কে রাজাকার বানিয়ে দেয় বয়সের সাথে খাপ না খেলে সামনে টাইটেল জুড়ে দেয় ক্ষুদে। তেনারা টাইটেল জড়াতে উস্তাদ। কোন সময় ইসলামী জঙ্গী কোন সময় রাজাকার কোন সময় ক্ষুদে রাজাকার আরো অনেক আছে যার হিসাব আড্ডাবাজ বখাটে ছেলেরাই দিতে পাড়বে ভালো। দেশ ভাগ করতে এরা উস্তাদ। আবার যুক্তি দেখায় //অপরাধী রাজাকারদের (প্রমাণিত নয়) সাথে আবার কিভাবে দেশ গঠন করবো তাহলে জেলখানা থেকে সকল আপরাধী বের করে দেশ গঠণ করার কাজে লাগি।// আরে ধূর্ত শেয়াল কোথাকার, জেল খানার আপরাধীরা বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রাপ্ত তাদের সাথে কোন বিচারে প্রমান এবং বিচার ছাড়া একজন মানুষকে আপরাধী বলা হয় বুঝিনা। আবারো দ্্বৈত নীতি।

সংস্কৃতি শব্দটির ইংরেজী তারা বলে কালচার যেটা গ্রহণযোগ্য ইংরেজী নয়। শব্দটির গ্রহণ যোগ্য ব্যাখ্যা দেয়া যায় সিভিলাইজেশন দিয়ে। কালচার হচ্ছে কাউবয় বলেছে তাই আমাদেরও বলতে হবে। কাউবয়ের জামাকাপড় পড়ে বাংলাদেশের রাস্তাতে হাটলে যে মানুষ তাদের কি বলবে তা তারা বুঝে উঠতে পারেননা। এই কালচার দিয়ে সংস্কৃতি নষ্ট করা হচ্ছে তা তারা মানতে নারাজ। তারা আছেন নতুন নতুন টাইটেল খোজা নিয়ে ব্যাস্ত। তারা কালচারটাই নিতে পেড়েছেন বৈকি। তারা ঢাকাতে ছোট স্কার্ট পড়ে ঘুড়ে বেড়ানো কালচার হিসেবে দেখেন আর ইউরোপে শাড়ী পড়ে ঘুড়ে বেড়ানোকে আনকালচার বা বাংলাদেশী সংস্কৃতি বলেন যা সত্যিই হাস্যকর। আনকালচার কিভাবে সংস্কৃতি হয়রে ভাই। তাদের কিভাবে বুঝাবো একেক দেশের সিভিলাইজেশন একেক ধাপে আগায়। এক সিভিলাইজেশন এর সাথে আরেক সিভিলাইজেশনের থাকে অনেক পার্থক্য এবং তাই একেক সিভিলাইজেশনের একেক ধাপকে একেক সংস্কৃতি বলে।

মূল কথা দাদায় অথবা কাউবয়ে কইছে তাই আমাদের বলতে হইবো কিছুরে কমু ইসলামী জঙ্গী আর যেগুলানরে কইতে পারমুনা তাদের কমু রাজাকার, ক্ষুদে রাজাকার ইত্যাদী। ও আবার কিছু কিছু মানুষ আছে সু- শিক্ষায় শিক্ষিত [কালচার্ড (!)] হয়ে স্ব-শিক্ষিত এবং শিক্ষিতদের কু-শিক্ষিত প্রমানের চেষ্টা চালান। তারা যে জ্ঞান পাপী হয়ে আছেন তা বুঝেননা। মানে, কাক চোখ বন্ধ কইরা ডিম রাইক্কা আইসা মনে করে কেউওওওওওওওওওও দেহে নাই।

বিঃদ্রঃ ছবিটি হোসেম আল তাওয়ালের। নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কিনা কোন খবর এখন পর্যন্ত পাইনি বলে দিতে পারলামনা। বানান ভুল হবার আশংকা আছে, ক্ষমাপ্রার্থী।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:১৭