আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে আজ মোটামোটি একটা ছোট খাটো ঝগড়া হয়ে গেল।বেচারা শেষ পর্যন্ত রেগে আমাকে বলে বসলেন তোমার সাথে কথায় পারবোনা। তুমি এই যুগের ছেলে আমার কোন কথা তুমি মানবেনা। একটু আশ্চর্য হলাম বলে কি বেটা (মনে মনে)? আমার কথা ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করতে যাওয়াটা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য এবং এতে সমাজ সভ্য হয় না অসভ্য হয়তার সাথে আমরা আসলে কি সভ্য সমাজে আছি।
জাহেলিয়াত যুগে নেতা নির্বাচন করা হতো নেতার বিশেষ বিশেষ গুণের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ বংশ বয়োজেষ্ঠতা, বিচক্ষনতা, সাহসিকতা, ব্যাক্তিত্ব, কাব্যানুরাগ ইত্যাদীর। প্রত্যেকে নেতার আনুগত্য স্বীকার করতো। যে কোন মূল্যের বিনিময়ে নিজ গোত্রের প্রাধান্য এবং দেশের স্বাধীনতা বজায় রাখতো। তবুও সেই যুগকে আমারা জাহেলিয়াত বলি। কিন্তু সেই নেতা নির্বাচন পদ্ধতির পাশা পাশি তারা যারা সভ্যতার শিখরবাসী বলে দাবী করে, তারা কি করে?
তাদের নেতা নির্বাচনের প্রথম ভিত্তিই হলো হূজগ। তার পর চলে মালপানির বিনিময়ে ভোট বেচাকেনার হিড়িক। আমাদের দেশে নির্বচনে ভোটারেরও দরকার পরেনা। একজনকে সীল এবং ব্যালট দিয়ে বসিয়ে দিলেই চলে। এক প্যাকেট কমদামের সিগারেটের মূল্যে অথবা মুরগীর মূল্যে ভোট বিক্রয় করতে দেখা গেছে। মফিজুর রহমান এবং জাদুব বাবুকে কবর এবং শ্মশান থেকে উঠে এসে ভোট দিতে দেখা গেছে। একই মহিলা এবং পুরূষকে একাধিক বার ভোট দিতে দেখা গিয়েছে তার মানে দাড়ালো মহিলাটির একাধিক স্বামী এবং পুরূষগুলোর একাধিক পিতা। এই হচ্ছে আমাদের নেতা নির্বাচনের জন্য ভোটারের গুনাবলী।
নেতাদের যোগ্যতার কথা বলতে গেলে তো মাশাআল্লাহ বহু ক্ষেত্রে কলাগাছ কিংবা মাদার গাছ। আমার স্পষ্ট মনে (আমার এলাকাতে) আছে আজকের পরাজিত শক্তি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্য বলে ছিলো যদি কলাগাছ দাড় করানো হয় পাশ করাতে হবে। আর জনগন ভালই শ্লোগান দেয় অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র। কিন্তু ফুলের নামটা বাদ দিয়ে যায়। জাহেলিয়াত যুগে নেতা নির্বাচন এবং সভ্যদের নেতা নির্বচনের তুলনা করা কি ভূল? মোটেও না। তার পরেও কি বলা ঠিক হবে জাহেলিয়াতর চেয়ে তারা বেশী সভ্য। সেই আমলে তারা নিজেদের বংশ কিংবা গোত্রের আধিপত্বএবং স্বাধীনতা যে কোন মূল্যে বজায় রাখতো, আর সভ্যতার ধ্বজধারীরা? তারাতো পারলে সবকিছু দিয়ে দেন। বেরূবাড়ী হাটতে পারলেও নিজেদের বলতে পারিনা। পার্বত্য চট্টগ্রামতো আনেকটা সাফ কেবালা করেই দিয়েছেন তারা। আমার মনে হয় যদি দেশের জমিন ঝুড়িতে তুলা সম্ভব হতো তাহলে চোরা চালানীর মাধ্যমে তাও বিক্রয় করা হত। সেই যুগের নেতারা মনে হয় আজকের সভ্যদের মতো জাহেল ছিলো না। তারা দিনের বেলাতে দেশ প্রেমের বুলি ছুড়ে আর রাতের অন্ধকারে সোনা দানা পাচার করে। নির্বাচন মন মতো না হলে একবার সুক্ষ্য অন্যবার স্থুলো কারচুপীর কথা তুলে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের মতো জাহেলিয়াতের সময় নিশ্চয় ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করা হয়নাই। তারপরও কি বলা চলে তাহারা সভ্য? আর এই সভ্যরা যদি নেতা হয় তাহলে সমাজ সভ্য কোনদিন সভ্য হতে পারবেনা। কথাগুলো শুধু আওয়ামী লীগ নয় বি এন পির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তার মানে কি এই নয় শুধুমাত্র সংখ্যাগড়িষ্ঠতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন গ্রহনযোগ্য নয়। এবং এতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এবং এর দ্্বায়ভার সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই নিতে হবে।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:৩৯
Uncategorized |
Posted by Iqram
Posted by Iqram
Uncategorized |
Posted by Iqram