হলুদ সাংবাদিকতা আমাদের দেশের অধঃপতন একটি প্রধান কারন। এবং তার সাথে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে ব্যাবসায়িক মনোভাব। আমার পরিচিত এক সাংবাদিক তিনি গ্রামের সকল জুয়ার আড্ডায় গিয়ে চাঁদা দাবি করতো। চাঁদা পেলে তিনি চুপচাপ থাকতেন এবং না পেলে পরের দিন সংবাদপত্রে দুই কলাম হেডিং এ ছবিসহ শেষের পাতাতে ছাপিয়ে দিতেন। পত্রিকাটি মফষেলর বলে এধরনের কাহীতি আমাদের সচরাচোর দেখতে হয়না। কয়েকদিন আগে শুনলাম তিনি ইউনিয়ান পরিষদ নির্বাচন করবেন সামনের বার। এবং মানুষজন নাকি বলছে জিতেও যাবেন। আমি শুনে বলালাম ভালইতো খারাপ কি???!!!
এতো গেল গ্রামের সাংবাদিকের ক্যারিকাচারি। এবার বলি একটি জাতীয় দৈনিকের সহকারী সম্পাদকের কাহিনী। তিনি আর কেউ নন দৈনিক ইনকিলাব এবং সাপ্তাহিক পূর্নিমার সহকারী সম্পাদক। এবং বর্তমানে শফিক রেহমান তার দৈনিক যায়যায়দিন (কিছু দিনের মধ্যেই বেড় হবে) এর সিনিয়র সম্পাদক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার কথা চিন্তা করছেন। উনার নাম হচ্ছে জনাব শাহ আহমেদ রেজা। উনার একটি উপ সম্পাদকীয় মাস দুয়েক আগে পরেছিলাম ইনকিলাবে। যা ছিলো জামায়াত এবং জোট সরকারের কট্টর সমালোচনায় পরি পূর্ন। কিন্তু 3রা জানুয়ারীর সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এ তার স্বদেশ পড়ে আমার অজ্ঞান হবার মতো অবস্থা হলো। মাত্র 2 মাসের মাঝে মানুষের এতো চেঞ্জ। দুইটি লেখাকে পাশাপাশি রাখলে বুঝা যায় কেমন সাংঘাতিক! উনি। হয় শাহ আহম্মেদ রেজা হলুদ সাংবাদিক এবং যুগের সাথে রং পরিবর্তনকারী অথবা ইনকিলাব এবং যায়যায়দিন তাকে বাধ্য করছে এই কাজ করাতে। এই হলো আজকের সাংবাদিক এবং তার সাংবাদিকতা যারা ইসলাম এবং বাংলাদেশের নব্য প্রজন্মকে নিয়ে ব্যাবসা করে কোটি পতি হচ্ছে।
ব্যবসার নতুন কিছু তথ্যঃ
1। শফিক রেহমান তার দৈনিক যায়যায়দিন আবার চালু করার কথা চিন্তা করছে এবং সেই সাথে তিনি প্রাইভেট রেডিও চ্যানেল চালু করবেন যা কিনা গত দেড় বছর ধরে চিন্তা করছিলেন।
2। ইন্টারন্যাশনাল হেরালড ট্রিব77689 বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত করতে চাইছে আমেরিকা যা কিনা নিউ ইর্য়াকস টাইমসের একটি মুখপাত্র।
3। আল জাজিরা বাংলাদেশ থেকে তাদের স্যাটালাই লাঞ্চ করার জন্য অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
4। বাংলাদেশে ইসরাইল এবং ইহুদী পন্থিদের ইন্টারেসে প্রকাশিত হয়ে গেছে দৈনিক আমাদের সময় যার সম্পাদক তসলিমা নাসরিনের 2য় স্বামী এবং আজকের কাগজের প্রক্তন সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান।
5। সিনে ম্যাগাজিন আনোন্দ আলো খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে যাচ্ছে চ্যানেল আই।
6। কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে স্কয়ার গ্রূপ একটি দৈনিক প্রকাশ করবে।
আশ্চর্য! এখন বোঝা যায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিদেশ ভ্রমনে এতো বাধা কেন? সত্য এবং মিথ্যা দুইটি দিক। এখন ভাবতে হয় অর্ধ সত্য, সত্য, 30 % সত্যা থিউরী, হাইপোথিসিস। বাংলাদেশর সাংবাদিকরা যদি প্রোডাক্টিভ কিছু হতো তাহলে কোন সরকারের অসুবিধা হতোনা। তারা যেভাবে রির্পোট করে সেভাবে আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থাও সরকারকে রির্পোট করতে পারেনা। সব গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাদের বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন!
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৫:০৪