হেনরী আমিন মূখার্জীর সামনে তার মিসেস চা এবং খবরের কাগজ রাখিয়া গেল। মুখার্জী সাহেব তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিলেন কোন কথা বলিলেন না। রাতের বেলাতে তার স্ত্রীকে এমনটি দেখায়না এখন যেমন তাকে কাদাকার এবং বৃদ্ধা দেখাচ্ছে। মুখার্জী সাহেব মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন কেন এমনটি হয়? কারন খুজিয়া পাইলেন না। জীবনের 40 বসন্ত পেরিয়ে গেলেও তাহাদের মনে আজো বসন্তের ফুল জাগিয়া উঠে। এগুলো ভেবে তিনি আর সময় নষ্ট করিতে চান না।
পত্রিকার কাগজের পাতা উলটাতে উলটাইতে একস্থানে আসিয়া তাহার চোখ আটকাইয়া গেল। তিনি আনন্দে চিৎকার করে বলেলন হুরের হুরের। চেচামেচি শুনিয়া তাহার মিসেস দৌড়াইয়া আসিলো। বলিলেন কেয়া হুয়া, কি হয়েছে? মুখার্জী সাহেব বলিলেন, না তেমন কিছু না তুমি তোমার কাজ করো গিয়ে। মিসেস বলিলেন এতো সুন্দর একটা মেগা সিরিয়াল কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি দেখছিলাম তোমার চিৎকারে আমি কনসালর্টেশন হারালাম। কোন মানে হয় এগুলো। আবার কখন ডিশের লাইন চলে যায়। ছেলেটা কত কষ্ট করে টাকা ছাড়া ডিশের লাইনটা এনেছে।
হেনরী আমীন মূখার্জী আবার খবরের কাগজে মনযোগ দিলেন। ব্যাপারটা তেমন কিছুনা। একটা সংখ্যা লঘু পরিবারের যুবতী কন্যাকে সন্ত্রাসীরা ধর্ষণের পর মেরে ফেলেছে। সংখ্যালঘু পরিবার বলে কথা। এটা নিয়ে একটি উপসম্পাদকীয় লেখতে হয়। কিন্তু হেডিং কি দেয়া যায়। হঁ্যা পাওয়া গেছে জোট সরাকর এবং জামাত শিবরের কর্মী দ্ধারা সংখ্যালঘু পরিবারের যুবতী ধর্ষণ এবং পরে হত্যো। খারাপ হবেনা।
কিন্তু এই ভাবে লেখা কি ঠিক হবে। তার নফস এবং বিবেক তাকে বাধা দেয়। লেখা লেখির অভ্যাসটা তিনি তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। পাকিস্থান আমলে তিনি ছিলেন তুখোড় বাম পন্থি একজন নেতা। হেনরী আমিন মূখার্জী তারই দেয়া নাম। তিনি সবকিছু বুঝেই এই নাম রেখেছিলেন। বাংলাদেশে কখনো হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগবেনা। আর যদি লেগেই যায় তাহলে ধুতী পড়ে মূখার্জী নাম নিয়ে তিনি দাদাদের হাত থেকে বেচে যাবেন। আর মুসলমানদের সামনে গত বছরে বায়তুল মোকাররমের খতিবের দেয়া জিন্নাহ টুপি পড়ে আমিন নাম নিয়ে হাজির হবেন। ফ্রেঞ্চকাট দাড়িটাও কাজে আসবে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গাতে। আর হেনরী নাম থাকাতে ইউরোপীয়ান দেশগুলো থেকে অনেক সুবিধা আর উপহার পাওয়া যায়। এইতো গেল বছর পুরো ইউরোপে ফুল ফ্যামিলি সহ পেলজার ট্রিপ দিয়ে আসলেন। পোলেন্ডে গিয়ে শীতের কারনে একবোরে কাবু হয়ে গেলান। ঔষুধ হিসেবে রাশিয়ার ভদকা খেয়ে প্রানে বাচলেন যেন। এই সুবাদে ছেলে মেয়ে আর তাদের মাকে ভদকার স্বাদ চাখিয়ে নিলেন। জর্ামানী গেলেন কিন্তু তারা বিদেশীদের একেবারেই পছন্দ করেনা উনার এবং উনার মিসেস এর গায়ের রং কালো হলে কি হবে ছেলে মেয়ে বেজায় ফর্সা তার উপর তাদের গায়ে থাকে ইউরোপীয়ান ধাচের জামা কাপড়। র্জামানীরা রাতে শোবার সময় বলে “গুদেন থাক” যার বাংলা শুভ রাত্রি। উনার ভালই লাগে তোদের ভাষা শুনতে। আর ফ্রেঞ্চরা সরি ফিল করলে বা কিছু বুঝাতে না পাড়লে বলে প্যাডো। বাংলা ভাষায় এধরনের কোন শব্দ নেই কেন বুঝেননা উনি।
বিবেক তাকে বাধা দিচ্ছে এধরনের লেখা লেখার জন্য। এর আগেরবার যখন বাংলার এক দামাল ছেলে 100 তম ধর্ষণ করে ধর্ষণের সেঞ্চুরী উৎসব করেছিলো তখন মুজীববাদী মুক্তিকামী দামাল ছেলে বলে হাতে কলম ধরতে দ্ধিধা হয়েিেছলো। এইতো গেল সপ্তাহে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলা ধর্ষিত হয়েছিলো। তার উপর ফিচার লিখে হাতের ঝালটা মিটিয়ে নিয়ে ছিলাম। তবে অনেক প্রশ্ন এসেছিলো চারিদিক থেকে। যেমন একজন বলেছিলো ধর্ষণের সেঞ্চুরী নিয়ে লেখা লেখলেন না কেন। আমি বলে ছিলাম এটি সামাজিক অপরাধ। তখন তারা বলে ছিলো সংখ্যালঘুটা কি অপরাধ? যুতশই উত্তর না দিতে পেরে আমি বলেছিলাম। আপনার কি মা বোন নেই। আপনার মেয়ে অথবা মায়ের সাথে এধরনের কাজ করলে আপনি চুপ করে থাকতেন নাকি। আর আমি দেশের সচেতন নাগরিক হিসাবে একটা দায়িত্ববোধ থেকে এই লেখা লিখেছি। এই লেখা আপনাদের জন্য নয় এই লেখা রাজাকার মুক্ত চিন্তার দিগন্তে এবং নব্য প্রজন্মের জন্য, প্রগতিবাদীদের জন্য। আপনারা মওদুদীর নেশায় মত্ত আপনাদের কোন জবাব দেয়ার প্রয়োজন মনে করিনা, আপনাদের একঘড়ে করে দিলাম যান আঙ্গুল চুষেন গিয়ে। ঝাড়ি মেরে কোন রকম সেইবারের মতো প্রাণে বেচেঁ গিয়েছিলাম। আজকাল হচ্ছেটা কি নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের তো দেখি লেখনির মধ্য দিয়ে ব্রেণ ওয়াশ করা যাচ্ছেনা। দাদাদের কি জবাব দিবো কোন কূল কিনারা পাচ্ছিনা। নতুন কোন পন্থা আবিস্কার করতে হবে।
লিখবো কি লিখবোনা। দুপুর গড়িয়ে আসছে কোন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। মেয়েটার প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটিতে পড়ার খরচ। মেয়েটার সামনের মাসেই বার্থডে একটা ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল এর সাথে সিম কার্ড কিনে দিবো ভাবছি। এখন নাকি কোন কোন কোম্পানী রাত 12 টার পর মোবাইল টু মোবাইল ফ্রি করে দিয়েছে। মেয়েটার আমার টাকা বেচে যাবে। আর একটা সুন্দর শাড়ী কিনে দিতে হবে। এইতো সেই দিন কোন একটা মোবাইল সিম কার্ড কোম্পানী তাদের গ্রাহকদের নিয়ে জমজমাট পার্টি করলো। সেখানে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে গানের তালে তালে খুব ভালোই নাচ্ছিলো। মেয়েটার পড়নে যে শাড়িটা ছিলো সেটা আমার মনে ধরেছে। এধরনের একটা শাড়ি কিনে দিবো। তাকে সুন্দুর মানাবে। ওর কিছু বয় ফ্রেন্ড রয়েছে তাদেরকেউ ইনভাইট করতে হবে। গেল সপ্তাহে মেয়েটা আমার চুল ডাই করেছে। ফিঙ্গেল বরন চুলের কন্যা ঘুড়বে দেশ বিদেশ। কে যন বলেছিল সে যেই বলুক। ছেলেকে নিয়ে আমি ভাবিনা। ছেলে আমার মানুষের মতো মানুষ। ছেলে আমার রং চটা জিনেসর প্যান্ট পরে গলায় থাকে সোনার চেন। দেখতে বোম্বের হিরোর মতো। এলাকাতে তার খুব নাম ডাক। বাপ বেটা রাস্তায় হাটলে আমাকে কেউ চিনেনা কিন্তু আমার ছেলে অবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই সালাম দেয়। এইতো সেই দিন এক দোকানে গেলাম সিগারেট কিনতে। দোকানদার বললো আপনে ……….. ভাইয়ের আব্বা না? আমি বললাম হঁ্যা কেন? দোকানি বললো না স্যার কিছুনা। স্যার সিগারেটের দাম দেয়ন লাগবোনা। মনে মনে পুলোকিত বোধ করলাম। আমার গ্রামে আমাকে কেউ চিনতো না। বাবার নাম বললে সবাই বলতো ও তুমি ……… ছাওয়াল। আজ আমার ছেলের নামে সবাই আমারে চিনে। ভাবতেই আমি পুলোকিত হই। গর্ভে আমার বুক দুই হাত বেরে যায়। আজকের প্রজন্ম সত্যিই এগিয়েছে।
বিবেক আর নফস তাকে একযোগে বলছে না লিখতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি লিখবেন। কারন কোরআনে জিহাদ করতে বলা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় জিহাদ হচ্ছে নফসের বিরূদ্ধে টিকে থাকা। কোন কিছুতো মানলামনা কোরআনের। এইটা এইবারের মতো মানি। দাদাদের টাকাতে লিখে। না লিখলে জবাব দিবো কি। তাদের মন জয় করতে না পাড়লে বাসার খরচ কিভাবে দিবো। পত্রিকাতে ফিচার লিখে আর কতোটুকু আসে। ইউরোপের অফারতো মিস করা যাবেনা। কি সুন্দর ইউরোপের সী বিচ গুলো সবাই অর্ধনগ্ন হয়ে হেটে বেড়ায়। আমার ভালই লাগে। কিছু টাকা পয়সা জমিয়ে সেন্ট মার্টিনে একটা এধরনের প্রজেক্ট নিতে হবে। প্রজেক্টের নাম হবে “চলো অরণ্যে হারিয়ে যাই”। ইংরেজী যেন কি হবে? আমি আবার ইংরেজীতে কাচা। আমার মেয়েটা ভালো ইংরেজী বলে অনেক উচু বংশের ছেলেদের সাথে মেলামেশা তার। আমার একটি উপ সম্পাদকীয় মেয়েটা ইংরেজী করে দিয়েছিলো। সেই লেখাটা এতো আলোড়িত হয়ে ছিলো যে ইউরোপের একটা ইউনির্ভাসিটি থেকে পুরস্কারসহ ডঃ ডিগ্রির আফার এসে গেল। কিন্তু আমি তো ইংরেজী পারিনা। বাংলাদেশের বোমা পরিস্থিতির বর্ননা দিয়ে যেতে অপারগতা দেখাই। আমার মেয়ে অবশ্য আমার হয়ে পুরস্কারটি নিয়ে এসেছিলো। এবারে লেখাটাও ইংরেজী করে নিতে হবে। তাহলে হয়তো এবার নোবেল এর জন্য নোমিনি হয়ে যাবো।
হেনরী আমিন মূখার্জী কলম নিয়ে লেখা শুরূ করলেন। জোট এবং জামাত শি………………………………………………………………….
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৪:০৫