আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক আছেন যারা তাদের মুসলমান পরিচয় নিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতার ডাক দেয় এবং বাঙ্গালী সংস্কৃতি, দেশ প্রেম, স্বাধীনতার ধারক বলে প্রগতিবাদী রূপ নিয়ে শার্টের কলার খুলে বুক ফুলিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশিত। তাদের মুক্ত মনের নিরপেক্ষ স্বাদ মিটানোর জন্য খুব ঘটা করে নিজেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করেন। কারন, তাদের মনে আর মগজে শখের শিং গজায়। শিং এর চারদিকে জন্মদিনটি আসার 10/20 দিন আগে থেকে ভীষণ চুলকানি শুরু হয়। তাই জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে তারা শখের শিং দিয়ে গুতাগুতি করে চুলকানি দূর করে থাকেন। এই শখের শিং গজিয়ে উঠা ভদ্দর লোকদের সংখ্যা আমি সঠিক ভাবে জানিনা। তবে আনেক।
জন্মদিন পালন আমার কাছে কয়েকটি কারনে যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। যেমন: আযথা পরের ভঙ্গি নকল করা। কাকের কণ্ঠে যখন কোকিলে কুহু কুহু শুনবেন কিংবা কোকিলের কণ্ঠে যখন কাকের কর্কশ ডাক শুনবেন প্রথমবার মনে হবে ভুল শুনছি বা কাককে কোকিল আর কোকিলকে কাক মনে করে বসে থাকবেন। তবে আমি মনে করি এই দুনিয়াতে এই ধরনের আজব কান্ডকারখানা ঘটা সম্বভ এবং 2য় বার শোনার পরে বিশ্বাস করতে বাধ্য। এই মুক্তমনা ধর্ম নিরপেক্ষ মুসলমানরা নামাজ রোজা তো করেনই না বরং অন্য ধর্মের সংস্কৃতি বুকে আকড়ে ধরে বলেন ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ বা রাষ্ট্র চাই। যেমন সাত মাসের গর্ভবতী হলে “সাত মাসী” করা। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ষষ্ঠ দিনে ষষ্ঠী পালন আর বছর পূরন হলে মোমবাতী জ্বালিয়ে কেক কেটে তথাকথিত জন্মদিন পালন। বাংলাদেশে এর প্রমাণ অহরহ। নেতা নেত্রীতো আছেনই আছে কবি সাহিত্যিক। আরো আছেন বুদ্ধিজীবী। আজকে অবশ্য বুদ্ধিজীবি সমর্্পকে সাকা চৌধুরী তার চিরচারিত নিয়মে বুদ্ধি দিপ্ত বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে খুব সুন্দর একটি উক্তি দিয়েছেন ছয় মাস চুল না কেটে, তিন মাস গোসল না করে শরীর হতে পচা মাছের গন্ধ বের হলেই বুদ্ধিজীবী সেজে বসেন কিছু লোক। আর আমি সত্য কথা বললে সমালোচনা করেন।। যাক এটা আলোচনার বিষয় নয়।
রসুম-রেওয়াজ আর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হিন্দু যদি হিন্দু থাকতে পারে আর খৃষ্টান যদি খৃষ্টান থাকতে পারে তাহলে মুসলমানদের ধর্ম নিরপেক্ষ হতে হবে কেন? কোন ভূতে যে এইসব মুসলমানরে কিলায় ধর্ম নিরপেক্ষ বানায়? আমার মাথাতে ঢুকেনা। শ্রেফ নষ্টি ফষ্টি। নিজের সংস্কৃতি প্রভাব অন্যের উপর না ফেলে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে কেক আর মোমবাত্তি দিয়ে খৃষ্টানী সংস্কৃতি পূজা করে। কেন ভাই কেকের চেয়ে ভালো কিছু কি বাংলা সংস্কৃতেতে নাই? নাকি এইখানে প্রেস্টিস বইলা কথা? ধার খয়রাত করে, চড়া হারে সুদের টাকা, ঘুষের টাকা, স্ত্রীর গয়না বন্ধকের টাকা নিয়ে ধূমধাম আয়োজন করে ধনী বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে ভোজ করানোর কি যুক্তি থাকতে পারে? এতকিছু আমদের দরকার নাই। যদি সামর্থ থাকে এই টাকা সন্তানের পেছনে ব্যয় করুন আখেরে কাজে আসবে। না হলে হয়তো ওল্ড হোমে জীবনের শেষ কয়টি দিন সৃতি চারণ করেই যাবে।
এবার আসেন জন্মদিনের তারিখ গোলমাল নিয়ে। যেমন ধরুন আজ 2006 সালের 12ই ফেরু্রয়ারিী একজন জন্মগ্রহণ করেছে এই দিনটি বাংলা 1412 এর মাঘ মাসের 30 তারিখ আর আরবী 1427 এর মহরম মাসের 13 তারিখ এবং দিনটি হচ্ছে রবিবার। এখন বলুন জন্ম তারিখ কোনটি ধরবেন? ধরে নিলাম ইংরেজীটাই ধরলেন কিন্তু দিনটি নিধারণ করবেন কি দিয়ে? এ বছর না হয় রবিবার ছিলো। কিন্তু 2007 এ সোমবার পড়ছে। জন্মদিন পালন কি সঠিক হচ্ছে? জন্ম তারিখ বললে হয়তো একটু সঠিক হয়। কিন্তু রবি আর সোমের ব্যবধান কি দিয়ে ঘুচাবেন? তারিখ বললেও সমস্যা, যেমন সন্তানের দাদা যদি আরবী তারিখ অনুযায়ী পালন করেন তাহলে আপনি সমস্যায় পরবেন। যেমন 2007 সালের 12ই ফেরু্রয়ারী তারিখে সন্তানের জন্ম তারিখ পালন করবেন তার 12 দিন আগে সন্তানের দাদা জন্ম তারিখ পালন করতে বাধ্য। কারন 1428 হিজরীর মহরম মাসের 22 তারিখ পড়েছে 2007 সালের 12ই ফেরু্রয়ারী। আর বাংলা করতে গেলে তো কথাই নেই। এভাবে প্রতি বছরেই তারিখ এবং দিনের হেরফের ঘটবে। নিরপেক্ষ থাকবেন, তিনটাই করেন? ছেলেও বুঝবে আসলে যেমন তার জন্মদিনও ঠিক নেই তেমনি ঠিক নেই জন্ম তারিখও। দাদা বাবা কিংবা মায়ের কাছে কি কোন জবাব আছে? ডেলিভারী দিবসকে জন্ম দিবস বানিয়ে প্রতি বছর এই ভুল করে যাচ্ছেন ভদ্দর নোকেরা। আমরা তো বছরে তিনটি সালই মানি, নাকি!?!
একটা সিরিয়াস মজার কথাতে আসুন এবার। ধরেন 12/02/2006 তারিখে ছেলের জন্মদিন বলে কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ করেছেন। একটু সাধারণ ভাবে চিন্তা করুনতো সেদিন কি আসলেও তার জন্মদিন? যদি সেই দিন জন্ম হয়ে থাকে তাহলে সন্তানটি এতো দিন যে তার মায়ের গর্ভে ছিলো সেই সময়টাকে কি বলবেন? আর যে সন্তান রাতে ভুমিষ্ট হয় তার জন্য কি বার্থ ডে না বার্থ নাইট? বাংলাদেশে কয় জন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে তার সার্টিফিকেটে এবং পাসপোর্টে জন্ম তারিখে গোজামিল দেয়া না? অথচ এই ভুলটাই শুদ্ধ হয়ে গেছে। মূলে ভুল থাকলে শাখা প্রশাখা ভুল হবেই। আর জন্মদিন অনুষ্ঠান এই ভ্রান্তিরই ফসল। নিরপেক্ষতার খিচুড়ী মার্কা নীতিই এর জন্য দায়ী।
খিচুরী মার্কা নীতি অবলম্বন করতে করতে তিনটি সালই মেনে চলেন তবে অন্যরটা আগে আর নিজের ঈদ মহরমে। আমরা কার? যে ডাকে তার? তাই এই সকল মুসলমানের নামধারীরা গর্ভ মুক্ত হওয়ার তারিখে খৃষ্টান কায়দায় বার্থডে পালন করেন। আর সংস্কার করতে গেলে ধর্মান্ধ, কট্টর, মৌলবাদী হয়ে যাই আর তেনার হন উদার পন্থি, মুক্তমনা, ধর্ম নিরপেক্ষ। এই ধর্ম নিরপেক্ষতার কপালে লাথি মারি। কি দরকার বার্থ ডে/ বার্থ নাইট/ ডেলিভারীডেট পালনের। রসবোধের কি এতো অভাব পরেছে? টাকা খরচ করে নিজের এবং সন্তানের জন্ম তারিখ সামাজিক ব্যবসার প্রেষ্টিজ না বানিয়ে নিজের সন্তানের পেছনে লগি্ন করুণ, কাজে দিবে। আর যদি বেশী টাকা থাকে সমাজের দারীদ্রতা দূর করুণ।
নেতা নেত্রী আর সমাজের কবি বুদ্ধিজীবীরা এই বাচ্চাদের মতো জন্মদিন পালন করতে একটুও গায়ে বাধেনা। ডায়পারস পড়িয়ে মুখে চুষনি দিয়ে দিতে পারলে মনে শান্তি পেতাম।
বি:দ্র:তেলাপোকা দেখলেনতো অবস্থা সংস্কার নীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে একে বারে নাজেহাল হলেন। উপাধিও জুটলো বেস কয়টি। আমি জানি আপনার পৃষ্ঠদেশ তৈলাক্ত তার পরেও বলছি পিছপা হবেন না।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৯