‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ একটি প্রতারণার বীজ!

January 16, 2007

ইসলাম পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের তুলনায় স্বতন্ত্র এজন্য যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন বিধান। কারো কথায় মনে হয় ইসলাম শুধুমাত্র আধ্যাত্মিকতার মাঝে সীমারেখা টেনে গিয়েছে। ইসলামে যেমন আল্লাহর হক আদায় করা বাধ্যতামূলক তেমনি সমাজের হক আদায় করা বাধ্যতামূলক। বাধ্যতামূলক কোরআন সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র, সমাজ, আইন, অর্থনীতি ইত্যাদী কায়েম বা কায়েমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। বাধ্যতামূলক শির্ক, কুফর, বিদাআত এর পাশাপাশি সবধরনের অন্যায়- অবিচার, শোষণ- নিপীড়ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। অন্য দশটি ধর্মের সাথে ইসলামকে এক করে ফেলা যায় না। এই সকল মৌলিক শর্ত অস্বীকারকারীরা কোনত্রুমেই মুসলমান পদবাচ্য নয়।

কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে কিছু মানুষ আছে যারা ইসলামকে পছন্দ করেনা কিন্তু সরাসরি ইসলামকে আস্বীকার করার মতো সৎ সাহস নেই। মূল কথা যারা ইসলাম থেকে পালিয়ে বেড়াতে চায় এবং মানুষকে ইসলাম বিমূখ করতে চায়। তাদের এই অবস্থানকে হালাল করার অনেকগুলো চেষ্টার একটি চেষ্টা হচ্ছে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ আইডলজি। ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ আমার মতে সবচেয়ে প্রতারক শব্দ এটি। এই শব্দটি কখন কি রূপ পরিগ্রহ করে তা বলা মুশকিল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতার মধ্যে পার্থক্য টানাটা খুব কঠিন। সন্দেহবাদী আর নাস্তিকের মাঝে তত্বগত পার্থক্য আছে ঠিকই কিন্তু কাজের বেলায় উভয়ের আচড়ন অভিন্ন। কারণ, এক আল্লাহকে কেউ যখন স্বীকার করেনা তখন তার কর্মকান্ডে আল্লাহ কোন বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাড়ায় না। যেমন একজন ঈমানদার নামায রোজা পালনসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে বা চলার চেষ্টা করে কিন্তু একজন নাস্তিকের এগুলোর ধারের কাছ দিয়েও যেতে হয়না। কিন্তু একজন সন্দেহবাদী কি করে? আল্লাহর আদেশ মানা না মানার মাঝে কি তৃতীয় বিকল্প কোন সত্যি আছে? অবশ্যই নেই। অর্থাৎ এখানে একজন সন্দেহবাদী নাস্তিকের মতোই আল্লাহর বিধান অমান্য করে। ধর্মনিরপেক্ষতার বেলাতেও একই এনালজি কাজ করে। একজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাক্তি কার্যত ধর্মহীন ব্যাক্তির মতোই ধর্মচারণ থেকে বিরত থাকে।

ধর্মনিরপেক্ষতা তথা ধর্মহীনতার অনেক দাবীদারকে মসজিদে দেখা যায় আবার ধর্মচারণেও দেখা যায়। এর কারণও আছে এরা ব্যাক্তিগত জীবনে ধর্মভীরু আর রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ। অনেকটা সেই ব্যাক্তির মতো যে ব্যাক্তিগতভাবে সৎ কিন্তু রাজনীতিতে ভয়ানক অসৎ। হাস্যকর হলেও এমন মানুষের অভাব এই ব্লগে নেই। অনেকে চুরি করে দান করে। একজন লোক ব্যাক্তিগতভাবে দানশীল কিন্তু অফিসে তার ঘুষের বদনাম। একজন লোক নামায ফাকি দেয়না কিন্তু অফিস ফাকি দেয়। এগুলো সবই স্ববিরোধীতা আর এই স্ববিরোধীতাগুলো আমাদেরকে নিম্নগামী করছে।

যারা ধর্মনিরপেক্ষ তারা মনে করেন (আদৌ মনে করেন কিনা জানিনা) ধর্ম শ্বেত শুভ্র বস্ত্রেও মতো যা রাজনীতির ময়দানে টেনে নিয়ে আসলে কালিমালিপ্ত হবে। এদের মতে ধর্ম রাজনীতি, সমাজ আর সংস্কৃতিকে বিশুদ্ধ করার পরিবর্তে ধর্ম নিজেই সমাজ ও রাজনীতির পঙ্কিলতায় সমর্পিত হয়। আজব!!! এখানে আমি যেটা মনে করি সেটা হচ্ছে ধর্ম এখানে ডিটারজেন্টের মতো কাজ করবে সমাজ, রাজনীতি আর সংস্কৃতিকে বিশুদ্ধ করার জন্য। রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশ নিষিদ্ধ এই অযৌক্তিক আবদার সমাজের আর সভ্যতার জন্য হানিকারক বা খাতরনাক বলেই বিবেচিত। একজন ব্যাক্তি তার ব্যাক্তিগত জীবনে সৎ এবং ন্যায়বান, কিন্তু এই ব্যাক্তিটি তার রাজনৈতিক জীবনে ধর্মচারণ না করার অর্থ হচ্ছে এখন তিনি জালভোট দিতে পারবেন, প্রতিপক্ষকে হয়রানী করতে পারবেন, হত্যা করতে পারবেন, মিথ্যে বলতে পারবেন, কুৎসা রটাতে পারবেন, গুজব ছড়াতে পারবেন এক কথায়া যাবতীয় অন্যায় করতে তিনি এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মের বিধি-নিষেধ মেনে চললে তিনি এইসকল অপকর্মগুলো করতে পারতেন না। এখান থেকে বোঝা যায় রাজনীতিতে ধর্মকে প্রবেশাধিকার দিতে যারা কুন্ঠিত তারা প্রকৃতপক্ষে এক বল্গাহীন রাজনৈতিক অংগনের প্রত্যাশা করে যা আমার কাছে অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক বলেই মনে হয়। আর যারা ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে শুধু রাষ্ট্রীয় আইন বিধান তৈরীর ক্ষেত্রে ধর্মকে বাদ দিতে বলেন তাদের যুক্তিটাও হাস্যকর ন্যাকামীতে পরিপূর্ন। উত্তরাধিকার আইন ইসলামে অলংঘনীয় একটি আইন। এখন ধর্মনিরপেক্ষ সরকার যদি এই আইন বদল করতে চায় তবে এই ধর্মনিরপেক্ষ আইন হবে ধর্মপালনে বাধা। আর যে কোন ঈমানদার মুসলমান এর বিরুদ্ধে দড়াতে প্রস্তুত।

ধর্মহীনতাবাদীদের আরেকটি খোড়া যুক্তি হচ্ছে একটি দেশে নানা ধর্মের লোক থাকে। রাষ্ট্র যদি একটি ধর্মের ব্যাপারে প্রায়োরিটি দেয় তাহলে অন্য ধর্মের প্রতি অবিচার করা হয়। নিরপেক্ষতার এই প্রশ্নটি যদি একটু গভীর ভাবে পরিলক্ষিত করা যায় তাহলে কি দেখা যায়? বাংলাদেশে উপজাতীয়সহ কয়েকটি ভাষাভাষির লোক থাকে সেখানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়াটা কোন নিরপেক্ষতার আওতাতে পরে? ভাষা আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিটা কি ভাবে নড়বড়ে করে দিচ্ছেন আপনারা সেদিকে কি একটু দৃষ্টিপাত করবেন? আরো আছে শাপলাকেই কেন জাতীয় ফুল বলা হবে, কেনইবা দোয়েলকে জাতীয় পাখি আর কাঠালকে জাতীয় ফলের মর্যাদা দেয়া হবে? আহারে কি পান্ডিতমূর্খ নিরপেক্ষতা আমার! এই নিরপেক্ষতার জ্বালায় আপাতত পরের প্যারাতে যাই।

কিছু মানুষকে দেখা যায় সূরা কাফিরুনের শেষ আয়াতটি (লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন) জিহ্বার আগাতে লেগে থাকে। এই আয়াতটি ধর্মের ব্যাপারে আপোষকামিতার বিরুদ্ধে প্রচন্ড চপেটাঘাত। এই বানীর মাধ্যমেই চিরতরে ধর্মনিরপেক্ষতার কবর রচনা করা হয়েছে। আরেকটি আয়াত আছে “লা ইকরা ফিদ্বীন”। এই আয়াতটি অন্য ধর্মালম্বীদের ব্যাপারে ইসলামের সহিষ্ণুনতার প্রতীক এখানে ধর্মনিরপেক্ষতা আবিস্কারের কোন সুযোগ নাই। আমার মাথাতে এইটা আসেনা যে ধর্ম কি করে ধর্মনিরপেক্ষতার ওকালতি করে? এখানে কি ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ধর্মকে পক্ষান্তরে স্ববিরোধী বলার চেষ্টা করছেন কিনা সেটা বিবেচনায় আসতে পারে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের প্রতি আরজ রইলো দয়া করে আরো কয়েকটি আয়াত যদি জিহবার আগাতে রাখতেন তবে এই অধম কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পন্যবোধ করিতো না। আয়াতগুলো হচ্ছে, ইনিল হুকমু ইলল্লাহ (এই জগতে হুকুম দানের অধিকার আল্লাহ ছাড়া কারো নেই), আলাল্লাহুল খালকু ওয়াল আমরু (সৃষ্টি তার অতএব হুকুমও চলবে কেবলমাত্র তারই)। আরো অনেক আয়াত আছে এরকম যেখানে মহান আল্লাহর নিরংকুশ কতর্ৃত্ব এবং সার্বভৌমত্বের দৃপ্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

যারা ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ান তাদের আচড়নেতো নয়ই বরং চিন্তাচেতনাও যে মোটেও ধর্মনিরপেক্ষ না তার প্রমাণ প্রয়োজনের তুলনা অনেক বেশী। তারা যদি ধর্মনিরপেক্ষই হবে তাহলে নিজেরা ধর্মের বিপক্ষেতো কিছু লেখতেনই না বরং কেউ লিখলে তার প্রতিবাদ জানাতেন। দূর্ভাগ্য যেটা সেটা হচ্ছে যারাই ধর্মনিরপেক্ষ তারা শুধু ধর্মহীনই নয় বরং ধর্মবিরোধী। ধর্মকে কটাক্ষ করে সাহিত্যেও নামে রচনা তৈরীর সময় কোন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কোন কালেই প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। সুবিধাভোগী অভিশপ্তরা ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার সময়ও নিরপেক্ষতা দেখাতে পরিপূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু জনতার রুদ্ররোষ যখন বাঁধভাঙ্গার আওয়াজের মতো উপচে পড়ে তখন এইসব বর্নচোরারা ঘেউ ঘেউ করার বাক স্বাধীনতার বুলি নিয়ে ল্যাস্প পোষ্টের কোনায় সম্পাদনকৃত কাজটি যেখানে সেখানে করতে চাওয়ার অধিকার চায়।

কিন্তু মাফ করবেন এটা আমাকে বলতেই হচ্ছে যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের জন্য ইসলাম সত্যিই হুমকি স্বরূপ।

বাংলাদেশে আওয়ামীরা ধর্মনিরপেক্ষতার উদ্ভাবক। 70 এর নির্বাচন থেকেই এই ভন্ডামী শুরু। কিন্তু এই দলের নেতারা শুধু ব্যাক্তি জীবনেই নয় বরং নিয়মিত ধর্মের অনুষ্ঠানিকতা পলনেও অভ্যস্ত। এদের কিছু সংখ্যক মানুষ নামায পরে কয়েকবার করে হজ্জ্বেও যায়, কেউবা আবার যাকাতও দেয় মৃতু্যর পরে আবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজাও পরানো হয়। তাদের পোষ্টার, লিফলেট, প্যাডে এমনকি ভিজিটিং কার্ডে পর্যন্ত লেখা থাকে ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’। লা ইলাহা ইলল্লাহ নৌকার মালিক তুই আল্লাহ বলে গলা ফাটান আবার ধর্মনিরপেক্ষতার রাম নাম জপে গলা ফাটান। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অন্যান্ন ধর্মগুলোকে কেন অবিচার করা হচ্ছে? এতো কিছুর পরেও যদি আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন থাকে তবে বলতে হবে ধর্মনিরপেক্ষতায় ভেজাল আছে।

আর যারা আওয়ামী ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করেন না কিন্তু তারপরেও ধর্মনিরপেক্ষ তথা ধর্মহীন তথা ধর্মবিরোধী হতে চান তবে বলবো দৃশ্যমান দিগম্বরের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য অনর্্তবাস খুলে নৃত্য করুন যেন আমরা বুঝতে পারি পচন চরিত্রের উৎকট দুর্গন্ধ যে আসলেই নির্ভেজাল দুর্গন্ধ। এখানে ভিন্নকে ডাঙ্গুলি হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজেকে গলফ খেলোয়ার এর সার্টিফিকেট দিয়ে রেফারির আচড়নটা মুনাফিকীর পর্যায় পরে!

ইসলাম ইতিহাসের এক স্বাভাবিক অভিব্যাক্তি। আমার বিকাশে, অগ্রগতিতে অপরিহার্য্য সহায়ক। ইসলাম আমার কাছে বিবেক বুদ্ধির সম্পূর্ন স্বাধিনতা। ইসলাম আমার কাছে যেমন আধ্যাত্মিক তেমন সামাজিক ঠিক তেমনই রাজনৈতিক…। এবং অবশ্যই শ্রেষ্ঠ দ্বীন। ধর্মনিরপেক্ষতার কোন বালাই ইসলামে নাই। যেটা আছে সেটা ধর্ম সহিষ্ণুনতা।


মহাজোটের মহা প্রলংকারী লালসা, ক্ষমতা

January 7, 2007

ইউ এস এ এম্বেসি 5ই জানুয়ারী একটি ষ্ট্যাটমেন্ট দিয়েছে। আর সেটা দিলো জয়েন্ট সেক্রেটারির বরাত দিয়ে। যদিও এধরনের কার্যক্রমে একজন জয়েন সেক্রেটারী কোন দেশের দায়িত্বশীল ব্যাক্তির পর্যায়ে পরে কিনা সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাই এটা কূটনৈতিক অসমাজিকতার আওতায় পরতে পারে। যাক, সেটা নিয়ে আমার মাথা না ঘামালেও চলবে।

সেখানে কিছু নীতিবাক্য সম্বলিত লাইন আছে। ভাল কথা, কেউ কাউকে নীতিবাক্য শোনাবে তাতেও আক্ষেপ করার কিছু নেই। সমস্য হচ্ছে এই আমেরিকা, বিট্রেন আর ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন গত 2 মাস যাবৎ কি করলো? তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে গত দুইমাসে আওয়ামী লীগের 90 শতাংশ আবদার পুরনে বাধ্য করালো কিন্তু তারপরেও কি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে পেরেছে? না তারা আনতে পারেনি। তারা যদি ষ্টেটমেন্টই দিতে চায় তবে তাদের পরিস্কার ভাবেই তা দেয়া উচিৎ ছিলো। পরিস্কার করা দরকার ছিলো সমস্যাটা কাদের মাঝে। যদি তারা সত্যিটাই বলতে না চায় তবে চুপ করে থাকাটা ছিলো অধিক শ্রেয়। না চুপ করে থাকাটা তাদের পক্ষে শ্রেয় নয় কারন বাংলাদেশের অনেক কিছুই তারা নিয়ন্ত্রন করে। কারণ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের হীন স্বার্থে এদের বাংলার উঠানে ডেকে এনে পিড়ি পেতে দিয়েছে। আর এখন এই সকল বৈদেশিক মহাজনরা একজন দায়িত্বশীল এবং দায়িত্বজ্ঞানশূন্যের মাঝে যে সমতা বিধান করার প্রয়াস করছেন সেটা নিতান্তই শঠতার পরিচয়।

সেখানে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাথে আবারও কনস্ট্রাকটিভ আলোচনায় বসার জন্য। চিঠি চালাচালিসহ কোন এযাবৎকালে আওয়ামী লীগের সাথে কোন আলোচনাটি অ-কনস্ট্রাকটিভ ছিলো? আর এগুলো থেকে কি কোন ভাল ফলাফল এসেছে? তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেষ দিন নির্বাচন বয়কট করলো। এমনভাবে আর এমন একটি দিন নোমিনেশন পেপার তুলে নেয়া হলো যেখানে কারো কথা বলার কোন সুযোগ নেই। তাদের যদি আলোচনার টেবিলে বসার ইচ্ছে থাকতো তাহলে কি এই কর্মটি সম্পাদন হতো? আর যেখানে এক দফা এক দাবীর মতো নগ্নতা চলে আসে সেখানে কি আদৌ আলোচনার সুযোগ থাকে? এখন আবার তারা বলছে নির্বাচন প্রতিহত করবে। নির্বাচনে অংশ নেয় না নেয়া একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত হতেই পারে। কিন্তু যারা নির্বাচন করবে তাদের এবং ভোটারদের বাধা প্রদান করাটা কি কোন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত হতে পারে? যদি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কমই হবে তবে বাধা প্রদানের কর্মসূচী কেন? ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্তীতায় 17জন এমপি হয়েছে। তা গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিতও হয়ে গেছে। এরা যদি এখন মামলা করে তাহলে কি হবে?

কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের কোন মূখপাত্রকে মিডিয়া প্রশ্ন করেছিলো আপনারা নোমিনেশন পেপার সাবমিট করে তা শেষ দিন তুলে নিলেন কেন? মূখপাত্র বলেছিলেন আমরা যে নির্বাচনে যেতে চাই সেটা দেখানোর জন্য! আজব!!! আজকাল রাজনীতিতে নাটক করেও কি প্রমান করতে হয় আমরা নির্বাচনে যেতে চাই? তার মানে কি তারা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো? তাহলে এই সময়টা তারা আলোচনা করতে চাইলো না কেন এবং কেনই বা তাদের দফা নিয়ে আন্দোলন করতে রাজপথে নামলো না। কারণ একটাই নেতাকর্মীরা যেন হাই কমান্ডের যুক্তির অভাব দেখে নির্বাচনে যাওয়ার এবং দল পরিবর্তন করার সময় সুযোগ না পায়। এখন যুক্তিবাদীরাও পরেছে মাইনকা চিপায়। বিধ্বংসী আন্দোলন ছাড়া এখন কোন গতি নেই। বাংলাদেশের মানুষের কি বিবেক বুদ্ধি নেই বলেই তারা মনে করেন। তারা কি এ পর্যন্ত দেখাতে পেরেছে তারা আসলেও নির্বাচনে যেতে চায়?

হঠাৎ করে মহাজোট অবিস্কার করলো দ্রব্যমূল্যের দূর্ভোগ। মানুষের চাহিদানুযায়ী দ্রব্যমূল্যের উঠানামা। তবে আমি যা বলবো সেটা হচ্ছে লগি বৈঠার দূর্ভোগের চেয়ে মানুষ দ্রব্যমূল্যের দূর্ভোগ সহনীয়। কারণ গত 5 বছরে 74 সালের মতো একজন মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার 42 দিনের মাথাতে লগি বৈঠার দূর্ভোগে 77 জন মানুষ মারা গেছে। আহত এবং পঙ্গু হয়েছে হাজার খানেক। জনগনের দিকে নজর দেয়ার চাইতে যেটা দেখা যায় এই মহাজোট সংসদ এবং গনতন্ত্রকে ব্যার্থ এবং অকার্যকর করার ব্রত পালনেই ব্যাস্ত।

মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় রাজপথে পিটিয়ে মানুষ মারা হয়েছে। 27শে অক্টোবর থেকে এযাবৎ পত্রপত্রিকার হিসেবানুযায়ী 77 জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে তান্ডবলীলা চালানো হয়েছে। অসাংবিধানিক ভাবে সরকারী কর্মকর্তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। দফার পর দফা, দাবির পর দাবি আসছে আর সুরঙ্গের পর সুরঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে। লগি বৈঠা সমেত কিছু জঙ্গী মানুষ বঙ্গভবনের ইট খুলে নিয়ে সেটাতে বসে চিড়া- মুড়ি- খই খাওয়ার জন্য সংবিধানের কাগজকে ঠোঙ্গা হিসেবে ব্যবহার করবে সেইটা মোটেও কাম্য নয়। মনে রাখতে হবে সংবিধান অক্ষুন্ন রাখতে হলে 90 দিনের ভেতর নির্বাচনের বিকল্প নেই।

অপ বাকের পোষ্টা ভাল লেগেছে একদিকে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে দলটির সুস্থ ধারার রাজনীতির প্র্যাকটিস করা প্রয়োজন। পেশী শক্তির বদলে মানবীয় শক্তির দিকে তাকানো প্রয়োজন। কিন্তু আমি মনে করি 74 সালের আওয়ামী লীগই আজকের 2007 এর আওয়ামী লীগ ফারাক শুধু 32টি বছরের। যদিও আমার কাছে 32 বছর সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য যথেষ্ঠ সময় বলেই মনে হয়। ভিন্ন দিকে উনি গ্রহণ করে নিয়েছেন খেলাফত মজলিসকে এবং শেষে এসে মহাজোটের বিজয়ের সম্ভবনা দেখেছেন ভিন্ন অর্থে জয়ই কামণা করেছেন। আর এভাবেই যুগের চাহিদানুযায়ী নাস্তিকত্ববাদের বিলীন হবে আর এটাই চির সত্য ।

কিন্তু মোটেও ভাল লাগে না শেখ হাসিনার চিৎকার, “ক্ষমতা দে’বাঙ্গাল হারামজাদা নইলে সংবিধান ছিঁড়ে খাবো”। আরো ভাল লাগে না বিদেশী শকুনদের যাদের চিন্তাশীল মস্তুিকের কটুচাল এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্বাচন না হলে কোন না কোন ফায়দা তারা যে লুটবে সেটা এখন আর বাতুলতা নয়। কারন হামিদ কারজাইদের খুঁজতে হয় না, তাদের আগে থেকেই রেডি রাখা হয়।