২৮শে অক্টোবর

October 28, 2007

 

আজ ২৮শে অক্টোবর। আমরা যারা ইউরোপে থাকি তারা আজ ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা পেছনে টেনে নেই। যদি একটি বছর পিছিঁয়ে নিতে পারতাম।

আজ ২৮শে অক্টোবর। ভাগ্য ভাল শহীদ মুজাহিদরা একদল হায়নার হাতে দেশ লুণ্ঠিত হতে দেয়নি। নিজের জীবন দিয়ে রুখে দিয়েছে সেই সকল হায়নার ক্ষমতার লোভকে। এই প্রযুক্তির যুগে স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষায় এমন ত্যাগী সন্তান বাংলার বুকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরাই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার মূল শক্তি। গায়ের জোরের রাজনীতি শুরু হয় ৭১ এর স্বাধীনতার পরে। মরহুম মুজিবর রহমানকে ফুলানো ফাপানোর জন্য কিছু চামচা অদ্ভুত এক ত্বত্ত প্রসব করে। যার নাম দেয়া হয় মুজীববাদ। তাদের যুক্তি লিঙ্কন আঙ্কেল গনতন্ত্র এবং স্বাধীনতা দিয়েছে সমাজতন্ত্র দিতে পারেনি। মার্কস সাহেব সমাজতন্ত্র দিয়েছে কিন্তু গনতন্ত্র আর স্বাধীনতাকে কেয়ারই করেনি। এই চামচারা গনতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রকে বিকৃত করে রেখেছে। এই মুজিববাদ নামক বেজন্মা এই মতবাদটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গঠিত হলো রক্ষীবাহিনী। লাল বাহিনী, নীল বাহিনী আর সেচ্ছাসেবক বাহিনীও হানাদার পাকিস্তানীদের ন্যায় নির্যাতন করা শুরু করলো। এখান থেকেই গায়ের জোড়ের রাজনীতি শুরু। আর্মি রাস্তা নামলো, ৭৫ এ রজপাত হলো। ২০০৬ এ কিন্তু ঐ সকল চামচা প্রজাতীরা গায়ের জোড়ে আর লগি বৈঠার ভয় দেখিয়ে তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে এবং ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলো। শহীদ মুজাহিদরা সেটা করতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে দেশের স্বাধীনতা এবং গনতন্ত্র রক্ষার জন্য আবার আর্মি ব্যারাক থেকে বেড়ুলো। সেকালে মেজর জলিলরা নির্যাতিত হয়েছে স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে আর এখন হচ্ছে মুজাহিদরা। নির্বাচনের সময় এলে যারা হেজাব দিয়ে রাঙে ঐ সকল মুজিববাদী ভন্ড গনতন্ত্রের সেবকদের গনতন্ত্রের সবক শহীদ মুজাহিদরা দিয়ে গেছে।

আজ ২৮শে অক্টোবর। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করতে চাওয়া হচ্ছে আজো। দূনীর্তি বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ২৮শে অক্টোবর থেকে মানুষের নজর ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করার প্রয়াস চলছে আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের একটি বানীকে ঘিড়ে। এ বানীটি কিন্তু নতুন নয় সকলেই জানে এবং মানে। বিষয়টি এমন নয় যে নেঙটি পড়ে হাউকাউ শুরু করতে হবে। ইসলাম পন্থিদের বিষয়ে মিডিয়ার এই ভেল্কিবাজী নতুন কিছু নয়। সবাই একটি বিষয় খেয়াল করেছে কিনা যানি না। আমাদের বিজ্ঞ সাংঘাতিক সাংঘাতিক সাংবাদিকগন ঐ বানীর লিফলেট নিয়ে দৌড়ে গেলেন গুপ্ত, সাজিয়াদের কাছে। একজন সাংবাদিকে মাথায় কাজ করলো না যে আমরা যদি যাই তবে আমাদের যাওয়া উচিত একজন প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধার কাছে। কি ধরনের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ৭১ কে ব্যবহার করা হচ্ছে এটা বোঝার ক্ষামতা থাকলে বোধহয় গরু ছাগলও মাথা নিচু করে ফেলতো। ইনু মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে সেটা বিষয় নয়। কিন্তু সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী একজন উগ্র চিন্তা চেতনার মানুষ কি করে গনতন্ত্র বলে ফাল পারে সেটা হচ্ছে বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদারী আমরা আওয়ামী লীগকে দেইনি। যাই হোক গুপ্ত কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আপনার তাদের বিচার করনেনি কেন? উত্তরে গুপ্ত’জি বলেছেন অতীত ভুলে যেত।

আজ ২৮শে অক্টোবর। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দিন পাওয়া কঠিন যেদিন বাংলাদেশে কি ঘটেছে তা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অবলোকন করেছে।

আজ ২৮শে অক্টোবর। আমি অপরাধীদের বিচার চাই। আমার দেশে একটি বিচার ব্যবস্থা আছে আছে প্রশাসন আমার দেশ ৭২ থেকে ৭৫ এর মতো নয়। আমি গন আদালতের ধার ধারিনা। আইন নিজের হাতে তুলে নেই না। মামলা করা আছে। প্রমাণ রয়েছে। স্বাক্ষী রয়েছে। শহীদ মুজাহিদদের হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

আজ ২৮শে অক্টোবর। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ২৮শে অক্টোবর নিয়ে আলোচনা করবো সমালচোনা করবো গল্প লিখবো, কাব্য করবো, দু:খ করবো, দোয়া করবো। আর বিচার পাওয়ার পরেও ২৮ অক্টোবরের এ অওয়ামী লীগের, মিডিয়ার এবং বাংলাদেশের স্টুপিড বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবো সমালোচনা করবো নিন্দা করবো ধিক্কার দিবো। আওয়ামী লীগের মুখোশ উম্মোচন করবোই।

আজ ২৮শে অক্টোবর। প্রতি ২৮শে অক্টোবর আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নামধারী উগ্র ধর্মনিরোপেক্ষ জঙ্গীদের ধিক্কার জানাবো এবং
তাদেরকে গনতন্ত্র এবং মনবতার সবক দিয়ে যাবো।

আজ ২৮শে অক্টোবর। বাংলার মাটিতে ঐ সকল দূনীর্তিবাজ সন্ত্রাসী ধর্ষণকারী অবিশ্বাসীদের স্থান দিবোনা। ব্যালটের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক উপায়ে এদের নিশ্চিন্ন করে দেয়া হবে। যেমনটি ২০০১ এ করা হয়েছিলো। যুদ্ধটা এখনো জিয়ে আছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসীদের।

আজ ২৮শে অক্টোবর। মৌসুমি হেজাবী মহিলার হিংসাকে প্রশ্রয় দিবোনা। হায়নাদের রুখে দিবো। হাফিজের ছড়া আমার পড়া হয়না। তারা একটা ছড়ার
কয়েকটি লাইন তুলে দিচ্ছি:

ছড়ার নাম সংলাপ
মামু, গদি ছাড়া কেমুন করে নির্বাচনে যামু?
ক্যান, বৈঠা এবং লগি!!
ভাইঙগা দিমু গনতন্ত্রের চোদ্দৌগুষ্ঠির বগি,
ভাইংগা দিবোআদালতের শির,
আপমরা হলাম মুক্ত স্বাধীন স্বপ্ন বাবার পীর।
তয় একটু খানি ভয়,
হারামজাদা ভোটারগুলো মনের মতো নয়।

হাজারে চেষ্টা করলেও ২৮শে অক্টোবরের মানবতাহানি এবং দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে তার থেকে বাংলাদেশের জনগনের নজর ভিন্ন দিকে সড়িয়ে নিতে পারবেনা অভাগা অবিশ্বাসীরা।


ঈদ মুবারাক

October 12, 2007

ঈদ মুবারাক,

হয়তো আমার ঈদের শুভেচ্ছা সিদ্দিকা কবীরের স্বাদের খাবারের মতো নয় কিংবা টমি মিয়ার রুই ভাজীর মতো নয় হয়তোবা সঞ্জীবের কাবাবের মতো অথবা কেকা ফেরদৌসীর ভিনদেশী রান্নার মতো নয়। তাতে কি? বার্জারের মতো রং ছুয়ে যায়না হয়তো। এ্যাডভান্সড ডেভলাপদমন্ট ট্যাকনোলজির মতো ট্যাকনোলজি ওরিয়েন্টড নয় হয়তো। রেডিও ফূর্তীর মতোও নয়। নয় বাংলা লিংকের ফিসফিস আলাপের মতো। কে ক্র্যাফট এমব্রয়ডারি পাঞ্জাবী বা ড্রিম ফ্যাশন হাওসের ফতুয়া বা গ্রামীনের চেকের মতো নয়। নয় রূপালগির খাদি ফতুয়া। ক্যাটস আই এর পাংকু সার্ট এর মতোও নয়। লিভাইসের জিনসের মতোও নয়। বাটার জুতার মতোও নয়। নোকিয়া বা সনি এরিকসন এর নতুন মডেলের মবাইলের মতোও নয়। সিঙ্গারের সাদা-কালো থেকে ২৪ ইঞ্চির রঙীন টেলিভিশনের মতোও নয়। হয়তো হেড এন্ড শ্লোডার অল ক্লিয়ারের মতো নয়। হয়তোবা ওটবি বা ইকিয়ার ওর্য়াল্ডক্লাস ফার্নিচারের মতো নয়। হয়তো শেলটেকের মতো টেকশই নয়। হয়তো এল.জি’র ঈদ গুড লাকের মতো নয়। হয়তোবা হাঁস মার্কা গন্ধরাজ বা তিব্বত কদুর তেলের মতো সুগন্ধি নয়। ফ্রেশ সয়াবিন তেলের মতো উপাদেয় নয়। হয়তো রুচি ডাল ভাজার মতো রুচিসম্পন্ন নয়। লিপটন বা নেসক্যাফের এক মগ গরম পানীয় অথবা কোকাকোলা বা মক্কাকোলা দিয়ে দিল ঠান্ডা করার মতো নয় হয়তো। হয়তোবা রাধূনী গুড়ো মশলার মতো নয়। ফ্রান্সের পারফিউমের বা এয়ার বাস এর মতো নয়। নয় ইংল্যান্ডের সুটের মতো। নয় ইটালীর জুতা আর বেলজিয়ামের ক্রিস্টালের মতো। সুইস ফ্রাংকের মতোও নয়। সৌদী আরবের খেজুর খুরমার মতোও নয়।

তাতে কি, আমার ঈদ মোবারক একেবারে সাচ্চা দিলের ঈদ মোবারক। সবাইরে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ঈদর শুভেচ্ছা। রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ…

ছয় ঈদ পার করা বাসি সাদা পায়জামা পাঞ্জাবীটা কেয়া সুপার বিউটি শপের কাছে দিয়েছিলাম। মার দিয়ে ইস্ত্রি করে রেখেছে রাতে বাসায় যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে যাবো। পরশুদিন প্রথম জামাত ধরার ইচ্ছে। শাওনকে ফোন করছিলাম বললো, ভাইয়া শুক্রবার হলে হাজির হতে পারতম কিন্তু শনিবার সাড়াদিন কাজ…

আমি শুধু বললাম ‘বোন ফেত’।।


জাতীয়তার উৎকর্ষ

October 9, 2007

আমার জাতীয়তা আভিজাত্যের গৌরব।
আমি তাহার অন্ধ পূজারী।

আমার জাত সর্বত্তোভাবে উচ্চ।
ইহা শ্রেষ্ঠ বৈকি।
আমি অহমিক।
আমি অন্যায়ের উর্ধে।
আমি জাতীয়তার উতকর্ষে করিবো দেশ রক্ষা
নতুবা দখল করবো ভিন্ন দেশ।
আমি আমদানী রফতানীর শুল্ক হ্রাস- বৃদ্ধি করি।
আমি ভিন্ন জাতীর অনুপ্রেবশ করিবো নিয়ন্ত্রন।
দেশরক্ষার জন্য আমি সামরিক শক্তি অর্জনে ব্যাস্ত।
অথবা দেশরক্ষায় আম্রিকা গমনে ব্যাস্ত
নতুবা জেনেভায় পশ্চাদ ঘষি।

আমি অন্য জাতীর শ্রেষ্ঠত্ব থোরাই কেয়ার করি।
আমি শ্রেষ্ঠত্বের ভাবধারায় স্বপ্ন দেখি অহরহ।
আমি অন্য জাতির ভিক্ষায় নিজের পেটের সমাদর করে বলি আমরাই সেরা।
আমি দূর্বল মনে করিয়া অন্য জাতীরে করি শোষণ।
ইহা আমার জন্মগত অধিকার বলিয়া বিবেচনা করি।
আমি জাতীয়তাবাদের নেশায় মত্ত্ব।

আমি বলি
শাসন করার জন্মগত অধিকার কেবল বৃটিশেরই।
শাসন করার অধিকার কেবল সাদাদের।
আম্রিকা খোদার নিজের দেশ।
মদের তুলনা নাই।
মরুভূমি আমার প্রিয়।
খেজুর আমার জানেমান।
আমি বিজাতীর প্রতি ছুড়ে দেই ঘৃণা, হিংসা বিদ্বেশ
এটা আমার দেশ, ন্যায় করুক কি অন্যায়।
আমি মানবতাকে নির্মমভাবে অভিশপ্ত করি।
আমিই বাঙালী অথবা আরব কিংবা বৃটিশ নতুবা ইংরেজ জাতী!

চিত্ত্ব সুখে নিত্যানন্দ করি আমি।
আর লাউড স্পিকারে বলি;
দ্যায়র ইজ নো নেশন বাট আওয়ারস
আই রিপিট
দ্যায়ার ইজ নো নেশন বাট আওয়ারস
এন্ড উই আর দ্যা ম্যাসেঞ্জার অব নেশন।
উই আর দ্যা বাঞ্চ অব ন্যাশানালিস্ট।
এন্ড অভিয়াসলি উই আর নট মুসলিমস।