![]()
My job is not to represent Washington to you, but to represent you to Washington.- Barack Obama.
বর্তমান যুগে কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বের মোড়ল এটা দিবালোকের মতোই সত্য। তবে এটাও সত্য যে দেশটি মানবাধিকার লংঘণসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তাই তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচারী আলোড়িত এই দেশটির দিকে নজর পরাটা স্বাভাবিক। প্রাক নির্বাচনী হাওয়া বইছে সেখানে এখন। ডেমোক্রেটদের প্রাক নির্বাচন জড়িপ প্রায় শেষের দিকে। হিলারি, ওবামা জড়িপে বারাক হোসাঈন ওবামা এগিয়ে আছেন তাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তার দুই দুটি খারাপ দিক আছে। এক দিকে তিনি আফ্রিকান এমেরিকান আই মিন কৃষ্ণাঙ্গ এবং ভিন্ন দিকে তিনি একজন মুসলিম বংশদ্ভুত। ভিন্ন দিকে হিলারি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডেমোক্রেটিয়ান। ক্লিনটনের ইমপিচমেন্ট ইস্যুর সময় মহিলার ধৈর্য্য এবং প্রজ্ঞা আমাকে অভিভূত করেছে। যোগ্যতার কথা বিচার করলে ওবামাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। তা ছাড়া একই সাথে দুদুটি খারাপ গুন থাকার জন্য তার সিমপ্যাথি সার্পোটও আছে। আবার সিমপ্যথির কথা বিচার করলেও হিলারীও পিছিয়ে নেই কারন তিনি একজন মহিলা প্রতিযোগী। দুজনের একজনও কারো থেকে কম নয়। তারপরেও কি শেষ রক্ষে হবে ওবামার কারন ওবামাকে নিয়ে প্রাক নির্বাচনী প্রচারাভিজানে মিডিয়া তাকে ভাল কভারেজ দিচ্ছে। যা দৃষ্টিকটু লাগছে আমার কাছে। যদি সে ক্যান্ডিডেট হয়ে যায় তবে কি রিপাবলিকানদের পোয়াবাড়ো নয়? যোগ্য সংখ্যাগুরু রিপেজেন্টভিকে মিডিয়া হটিয়ে দিয়ে একজন অধিকতর যোগ্য সংখ্যালঘুকে রিপ্রেজেন্টটেভি বানাচ্ছে, এটার ফায়দা কি রিপাবলিকানরা নিবেনা। কিছুই বলতে হবে না শুধু মিডিয়া এতুটুকু বললেই চলবে “ওবামা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিদ্ধিত্তকারী”।
ওবামা অথবা হিলারি একজনও যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তবে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ইতিহাস রচিত হবে। কাউবয়ের দু‘মেয়াদে অতিষ্ঠ আমেরিকানরা কি একটা নতুন ইতাহাস তৈরী করবে? করলেও কি খুব একটা কিছু হবে? না তা মনে করি না কারন, কি রিপাবলিক আর কি ডেমোক্রেট তাদের পররাষ্ট্রনীতি বিতর্কিতই রয়ে যাবে বলে আমার ধারণা। তারপরেও কেউ যদি বলে তোমার পছন্দ কাকে, রাখঢাক না রেখে বলবো ওবামাকে। না সে মুসিলম বংশদ্ভুত তাই তাকে পছন্দ করছি বিষয়টি আসলো সেটি নয়। কথাবার্তায়, তারুণতে ¡ওবামাকে আমার কাছে একজন সংবেদনশালী ও দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ব্যাক্তি মনে হয়েছে। তার ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার বইটির রিভিউ পরে একটু দূর্বলও হয়েছি বইটা পড়ার জন্য। রাষ্ট্রীয় কাজে এক কথায় রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে তাকে একজন মহিলা এবং বাঁদর মুখোর উত্তরসূরীর চাইতে বেশী যোগ্য বলেই মনে হয়। নারীর অমর্যাদা করছিনা। আমি বলেছি ‘রাষ্ট্রীয় কাজে এক কথায় রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে ’ (তাছাড়া অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে একজন নারী পুরুষের চাইতে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন)।
যদিও কৌশিক ‘দার মতো আমি একে বারে শতভাগ শিওর না ওবামা আগামী দিনে মার্কিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবে, তার পরেও বলবো: সুপ্রিয় ওবামা, শুধু আমেরিকাই নয় তৃতীয় বিশ্বও পরিবর্তন চায়। তারা বুঁক বেধে স্বপ্ন দেখে, মার্কিনিরা সহিংসতায় হাঁপিয়ে উঠেছে, তারা ইরানের দিকে আর আঙুল তাক করছে না। ইরাকে বোমা ফাটছে না। প্যালেষ্টাইন স্বাধীন হয়েছে সেখানে শিশু কিশোররা দুবেলা শান্তি মতো খাবার খেতে পারছে, ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পাড়ছে। সৌদী আরবে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়েছে। ওসামা বিন লাদেন ধরা পড়েছে। গুয়ান্তনেমো বে থেকে নিরপরাধ বন্দীরা মুক্তি পাচ্ছে। তারা মানবাধিকার লংঘন করছে না। আপনাদের হাতে শান্তির ফর্মূলা আছে কেন সেটা বোতলে আটকে রেখেছেন? বোতলের ছিপিটা খুলে দিন না…
আমেরিকায় প্রবাসী অনেক বাংলাদেশী ব্লগার আছেন স্যামহোয়ার ইন এ। তারা যদি তাদের মতামত ব্লগে শেয়ার করতেন তাহলে সেখানকার বাতাস আমরাও গায়ে লাগাতাম।