ছবি কথা বলে

August 26, 2008

আজ কোন মন্তব্য নয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার এই ছবির মাধ্যমেই প্রকাশ পাচ্ছে। ১/১১ আরো পরিস্কার হলো।


বিধ্স্থ হতে চলেছে দক্ষিন ওসেটিয়া

August 13, 2008

মানব জাতীর কলংক দেখার জন্য বিবিসি, সিএনএন, আল- জাজিরা খুলে বসে আছি আজ সাড়া দিন। চায়ের কাপের সাথে টোষ্ট বিস্কুট চিবুচ্ছি। কোন বিবেক নাড়া দেয় এমন একটি পরিস্থিতিতেও সাধারণ টোস্ট বিস্কুটের ড্যাম হয়ে যাওয়াটা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। নতুন টোষ্ট বিস্কুট কিনে আনবো কিনা ভাবছি। চা পানের আগে পানি খাওয়াটা জরুরি মনে হওয়াতে পাশের জনকে পানি আনার জন্য বিনয় করলাম। সমস্ত পরিস্থিতি একটি ডোন্ট কেয়ার ভাব চলে এসেছে। অথচ আমি বসেছি এটা বোঝার জন্য যে জর্জিয়া আর রাশিয়াতে কি ঘটছে, কি ঘটছে ঐ দক্ষিন ওসেটিয়ার ছোট্ট সীমানাটিতে। দূর্ভাগ্য আমার না কার কে জানে? নিউজ চ্যানেল এর কল্যানে সেনাবাহিনী নামক হিউম্যন রোবট এর কর্মকান্ড তথা যুদ্ধ দেখতে দেখতে এমন অবস্থা হয়েছে যে কোন কিছুই এখন অন্তরে দাঁগ কাটতে পাড়ছেনা!

এই যুদ্ধের কারনটি কি? ৯২ এ দক্ষিন ওসেটিয়া আলাদা হয়ে যায় জর্জিয়া থেকে। ৭০,০০০ জনসংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভাগেরও কম জর্জিয়ান। জর্জিয়ার দাবি এটা তাদের অংশ ছিলো এবং তাই দক্ষিন ওসেটিয়াকে বৃহত্তম জর্জিয়ার অংশ হিসেবে তারা পেতে ইচ্ছুক। বিষয়টি বোঝার জন্য সহজ করা হলে যা  দড়ায় তা হচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের অংশবিশেষ ছিলো তাই বাংলাদেশকে ভারত অঙ্গ রাজ্য হিসেবে চায়। জর্জিয়ার রক্তপাতহীন বিপ্লবের পরে মাইকেল সাকাসভেলির ইচ্ছেগুলোর অগ্রভাগে ছিলো দক্ষিন ওসেটিয়া এবং আবকাজিয়কে জর্জিয়ার সাথে একত্রিভূক্তকরণ। জর্জিয়া শুরু থেকে  দক্ষিন ওসেটিয়ার স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। দক্ষিন ওসেটিয়ার সংস্কৃতিক পরিচয় উত্তর ওসেটিয়ার যেটা এখনো রাশিয়ান ফেডারেশনের আওতায়। রাশিয়া এখানে লিবারেটর হিসেবে আর্বিভূত। রাশিয়ার যে কোন ইন্টারেস্ট নেই বিষয়টি আবার সেরকমও নায়। দক্ষিন ওসেটিয়ার সরকার রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। বাৎসরিক বাজেটের বিরাট একটি অংশ রাশিয়া দক্ষিন ওসেটিয়াকে দিয়ে থাকে। রাশিয়ার সরকারী গ্যাস কোম্পানী বিশাল অংকের বাজেট দক্ষিন ওসেটিয়াতে বিনিয়োগ করেছে। দক্ষিন ওসেটিয়ার ৭০ ভাগের উপরের জনসংখ্যা রাশিয়ান পাসর্পোট ব্যবহার করে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আক্রমনে যেখানে নিরিহ জনগন মৃত্যবরণ করছে। শরনার্থী আশ্রয় নিচ্ছে রাশিয়াতে। সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষিন ওসেটিয়ার নিরাপত্তার বিষয়টি রাশিয়ার দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়। যুদ্ধটি ইনটেনশালি না তবে একটি ছুঁতোর প্রয়োজন ছিলো।

আমরা যদি একটু মূলে যাই তাহলে যা দেখা যায় তা হচ্ছে, ২০০৩ এ মাইকেল সাকাসভিলির বিজয়ের পরে থেকে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার বৌদলতে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে জর্জিয়া পায় বিপুল পরিমানে অর্থ। ওয়ার অন টেররিজমের আওতায় জর্জিয়াকে দেয়া হয় আধুনিক সমর কৌশলের অনুশীলন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, জার্মানী এবং রাল্টিক দেশ থেকে জর্জিয়া বিপুল পরিমানে অস্ত্র যার পুরোটাই ফ্রি। মাইকেল সাকাসভেলির আসার পরেই জর্জিয়ার সামরিক বাজেট বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে আজারা হস্তগত করে নেয়ার ফলে দক্ষিন ওসেটিয়া, আবকাজিয়ার মতো এলাকাগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এটা ২০০৪ সালের ঘটনা। সাকাসভিলির পেছনের শক্তি ওয়াইট হাউস মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। এবার নজর গিয়ে পরে দক্ষিন ওসেটিয়ার দিকে। সাকাসভিলি সেখানে জর্জিয়ান এবং ওসেটিয়াদের মানবিক সাহায্য দেয়ার প্রস্তাব করে এবং স্বায়েত্তশাসন দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে জর্জিয়ান পুলিশ দক্ষিন ওসেটিয়া সংলগ্ন একটি বাজার বন্ধ করে দেয় যা ছিলো রাশিয়ার একটি গুরুত্পূর্ন বাজার যেখানে করমুক্ত পন্যের ব্যবসা হতো। এর সূত্র ধরে দক্ষিন ওসেটিয়া রাশিয়া এবং জর্জিয়ার স্থলপথ বন্ধ করে দেয়। ৬ই জুলাই রাশিয়ান একটি কনভয়কে জর্জিয়ান শান্তিরক্ষা বাহীনি আটক করে। পরিস্থিথি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তারপরের দিনই ৫০ জনের একটি জর্জিয়ান শান্তিরক্ষা বাহীনিকে দক্ষিন ওসেটিয়া নিরস্ত্র এবং আটক করে। এ অবস্থায় সাকাসভিলি শান্তি আলোচনায় যেতে অস্বিকার করে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুর করে যার ফল এই যুদ্ধ।

মজার ব্যাপার হলো সংবাদ মাধ্যমগুলো কিন্তু এবারো ওয়াইট হাউজনীতি থেকে থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি। তারা বুশের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে। কলংকিত রাজনীতিটাই এই যুদ্ধের মূল ইস্যু। যুদ্ধটি যতনা রাশিয়া জর্জিয়ার তার চেয়ে বেশী রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের। মাঝ থেকে দক্ষিন ওসেটিয়া যুদ্ধে বিদ্ধস্ত হবে। বোঝা মুশকিল এটা এ সময়কার স্নায়ুযুদ্ধ কিনা কারন এখন পর্যন্ত নেতারা মৌখিকভাবে আস্ফালন দেখাচ্ছেনা যতটুকু দেখানো প্রয়োজন একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জন্য। বুদ্ধিমান প্রানী মানুষ হিসেবে এটা খুবই কষ্টকর ব্যপার যে তিনটি দেশের একটি দেশও এর একটি শান্তিপূর্ন সমাধানে না এসে এর দায়িত্ব দিয়ে দিলো সেনাবাহীনির উপর। বিষয় হচ্ছে কোন রাষ্ট্রে আজ পর্যন্ত সেনাবাহীনি কোন সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।

সবথেকে হাস্যকর হচ্ছে এ যুদ্ধটি তখনই হচ্ছে যখন বেইজিং এ অলেম্পিক উদযাপিত হচ্ছে যার শ্লোগান হচ্ছে “এক পৃথিবী এক স্বপ্ন”। গতকালও দেখলাম অলেম্পিকে রাশিয়ান এথেলেট জর্জিয়ান এথেল্যাটকে চুম্বন দিচ্ছে। এর মানে সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। কিন্তু আমি যেটা বুঝিনা সেটা হচ্ছে বড় বড় পরাশক্তিরা যখন নাচতেই নেমেছে তখন গায়ে কাপড় থাকার স্বার্থকতাটি কোথায়?

অনুভূতিহীন ভাবে বোঝার চেষ্টা করছি কোথাকার পানি কোথায় গড়াচ্ছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কি যুদ্ধ লেগে যেতে পারে?


সেনাবাহিনী এবং রাজনীতিবিদরা যখন মুখোমুখি দোষটি তখন কার?

August 7, 2008

 

একটি প্রবাদ আছে “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই”। প্রবাদটি যেমন সত্য তার চেয়ে বেশী সত্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রবাদ হচ্ছে “আমরা ভবিষ্যত জানি না এবং অতীত থেকে শিক্ষা নেই না”। আমরা যদি একটু অতীতে ফিরে যাই তাহলে আমাদের ইতিহাস একটি জাতী হিসেবে আরকটি জাতীর চেয়ে অভিন্ন নয়। দেশের রক্ষক এবং পরিচালক যখন মুখোমুখি অবস্থান করে তখন একটি দেশে গনতন্ত্র যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিতে পারে না তেমিন উন্নয়নও সম্ভবপর হয় না। সেই ৭১ এ আমরা আবার ফিরে যাই। ৭১ এ বর্বতার হর্তাকর্তা ছিলো সেই সেনাবাহিনীর কর্তা ব্যাক্তিরাই। চলে যাই ৭২ এ, রাজনৈতিক নেতারা ভিনদেশী স্বার্থ রক্ষার জন্য জনগনের আশা আকাংখাকে পাশ কাটিয়ে জনগনের তাদের হাত, মুখ এবং চোখে যে কালো কাপড় বেধে দিয়েছিলো সেটুক বাদ দিলেও একটি গনতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দিতে পেরেছিলো। ৭৫ এ চলে আসি। ৭৫ এর আগষ্ট বিপ্লব ট্রাজিডি হলেও সবথেকে নির্মম সত্য হচ্ছে এর হর্তাকর্তারার সেনা কর্মকতা। তার চেয়ে বড় দূর্ভাগ্যের বিষয় এরা মুক্তিযোদ্ধাও। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। তদান্তীন সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌ-বাহিনী প্রধানরা খন্দকার মোশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রর্দশন করে এই হত্যাকান্ডের অনূমোদন দিয়েছিলো। জেলখানাতে চার নেতার মৃত্যু ঘটে এই সেনাবাহিনীর আলতো ট্রিগ্রারের ছোঁয়ায়। খালেদ মোশাররফের হত্যাকান্ডও ঘটে সেনা সদস্যদের হাতে। কর্নেল তাহেরের একই পরিস্থিতি। মেজর জেনারেল মঞ্জুর কর্তৃক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে প্রাণ হারাতে হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের হাতেই।  বিচারপতি আব্দুস সাত্তার আসলেন। নির্বাচিত হয়ে আসা এই বৃদ্ধ মানুষটিকে রাইফেলের বাট দেখিয়ে দমিয়ে দিলো সেই সেনাবাহীনিই। ১১ই জানুয়ারীতেও  ২০০৮ এও একই কর্ম সম্পাদিত হলো সেই সেনাবাহিনী দ্বারাই। তার মধে আবার এই ক্যু এর আর একটি রি ক্যু করতে গিয়ে জেনারেল মাসুদ এখন গৃহবন্দী। এই সময়টুকুর মধ্যে রাজনীতিবিদদের ভুলগুলোর অন্যতম ছিলো ৭৫ এর বাকশাল কায়েম করা। এছাড়া তেমন কোন কারণ ছিলো না যেখানে গনতান্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়াটা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য কষ্টকর হয়ে পরে। একথাগুলো বলার কারন হচ্ছে মঈন ইউ খানের ভাষ্যমতে সেনাবাহিনীর জরুরী অবস্থা জারীর (আই ওয়াশ্ড বাই ইয়াজুদ্দীন আহমেদ) প্রধান করান ছিলো ২৮শে অক্টোবরের মতো রক্তপাত বন্ধ করে একটি নির্বাচন দেয়া। কিন্তু গদির মখমল যখন অতীতের মতো সেনাবাহিনীকে আবারও হাতছানি দেয় তখন মঈন ইউ খানরা সে লোভ সামলে উঠতে না পেরে নতুন এজেন্ডা রাজনীতিবিদ নিধনে মিশন একমপ্লিশড করতে উঠে পরে লাগেন। বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিতে না পারার জন্য রাজনীতিবিদরা যেমন দায়ী সেই দায়টি সেনাবাহিনীও এড়াতে পারেনা। এ যখন হয় অবস্থা তখন আমার বলতে হয় ‘হু এল্স টু ব্লেইম?’
ভিন্ন বিবেচনায় আরো একটি বিষয় সামনে আসতে পারে তা হচ্ছে ধর্ম “ইসলাম”। ৭১ যেমন ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এখন সেই রুপে ইসলামকে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বিধেয় ভিনদেশীরা আমাদের গর্বের বিষয় যে সেনাবাহিনী তাকে আজ ব্যবহার করছে। কারন মুসলিম দেশগুলোর গনতান্ত্র র্চচায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন। আলজেরিয়া এবং তুরস্কতে আমরা এধরনের অবস্থা দেখেছি যেখানে সেনাবাহিনী এবং রাজনীতিবিদরা মুখোমুখি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।