সবকিছুর নিরব স্বাক্ষী হয়ে থাকতে হয় তাকে। সবকিছু জানার পরেও মুখ খুলা উচিত না। মুখ খুললে তার নিজের কিছু আসে যায় না তবে অন্যের অবশ্যই আসে যায়। বিষয়গুলো অন্যদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। কাজটা করা তাই কাম্য নয়। যাদেরকে পছন্দ করে সে তাদের ইচ্ছে মতো উত্তর দেয়াটা ইদানিং একটা স্বভাবে পরিণত হয়েছে তার। খুব ভালই বুঝতে পারে সে, নইলে সর্ম্পকের অবনতি হবে। প্যারেন্টাল গাইডেন্সে তার চাইতে অন্যরা ভালই বুঝে! তাই এগুলো একরকম থ্রেটই মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে দূর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। তাতে তার বিন্দু মাত্র আক্ষেপ নেই কারণ এগুলো আদৌ তার দূর্বলতা নয়। কিন্তু বাকীরা যদি এগুলোকে দূর্বলতা ভেবে খুশি হয় তবে বট গাছের মতো ছায়া দিতেও তার আপত্তি নেই। করুণা বিষয়টাও কোন কালে পছন্দের ছিলো না তার। অতি মানব জিনিষটাও পছন্দের না, হিপোক্রেসিটাও না। সর্ম্পকের জালে আটকা পরে গেলে আমরা বেড়িয়ে আসতে পারি না। টিপিক্যাল এশিয়ান থিউরী হতে পারে এটা। বিষয়টা আসলে কিন্তু তেমন না। বিষয়টি আসলে আমরা অতি মাত্রায় সামাজিক। যেটা মোটেও ঠিক না। আবার অন্যদিকে আমাদের আমাদের প্রেস্টিজ জ্ঞান প্রবল। জগাখিচুরী যাকে বলে। ১০ দিকে তাল মারা স্বভাব আমাদের। এই প্রেস্টিজ জ্ঞান প্রবল হওয়ার কারনে আমরা সব সময় একজন আরেকজনের চাইতে নিজেকে বেশী বুদ্ধিমান এবং উঁচু ভাবতে শুরু করি। যত নষ্টের মূল এটা। ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না থিউরীতে যদি চলে সে। তবে জীবন- যাপন কঠিন হয়ে যাবে। তবে জীবনের একটা লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থাকতে হয়। সবার আছে সেও তাই ব্যতিক্রম নই। কেউ চাপে পরে সর্ম্পক রাখে কেউ সত্যি সর্ম্পক রাখে। ইচ্ছে করলেই লাইফ কম্পিলিকেটেড করা যায় আবার ইচ্ছে করলেই সহজ করা যায়। একবার মানুষের কাছে বিশ্বাষযোগত্য হারালে সেটা ফিরে পাওয়া সত্যি কঠিন, সেটা বোঝা উচিত বাকীদের। অতি ধার্মিক আর বক ধার্মিকের জন্য এই শতাব্দিতে পুরুষত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাই পুরুষত্ব প্রকাশ পাবে বলে উচিত কথা সে বলতে পারেনা। সে অন্য ১০জন মানুষের মতোই। অতি মানব না। পার্থক্যটা শুধু মাত্র এইখানে যে সে যাদের পছন্দ করে তাদের সত্যি পছন্দ করে। এমন ভাবে পছন্দ করে যে খুব প্রিয় দুইজনের ঝগড়া লাগলে সত্যিটি জানার পরেও বলতে পারে না। কারণ বললে মনে হয় আরেকজন কষ্ট পাবে। সাধারণ একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি কেউ কমেন্ট করে সে তার জায়গাতেই ফিরে যাক, আশা ছেড়ে দিক। তারপরেও সে কিছু বলেনা। কারন সে যাদের পছন্দ করে তাদের সত্যি পছন্দ করে একবিন্দু পরিমান খাদ নেই তাতে। কালো প্রসঙ্গ উঠলে সে তার দাদীর মতো বলে “কালা হইলে কি হইবো অন্তরটা ধলা” কারন কাটিয়ে নিতে চায়। সেটা যদি কেউ দূর্বলতা ভেবে ফায়দা উঠায় তবেও সে বিন্দু মাত্র দুঃখিতবোধ করবে না। এমনটা যদি তাকে অতি মানব পরিচয়ে পরিচিত করে তবে সেটা তার দোষ নয়। তার দোষ হতে পারে এটা যে সে জীবনকে সহজভাবে পরিচালিত করতে চাই। এটা কি আদৌ কোন দোষ? বললাম না ইচ্ছে করলেই জীবনে কম্পিলিকেটেড করা যায়। এই লেখাটাই এর উত্তম উধাহরণ। সারর্মম হচ্ছে অনেক রির্জাভ থাকতে হবে মানুষের সাথে সেটা যত আপনজনই হোক না কেন! ব্যাক্তিত্ব বজায় রাখতে হবে, সেটা যত কষ্টেরই হোক না কেন! এতেই সবার সাথে সর্ম্পক ঠিক রাখা যাবে। অনেকটা রোবট জীবন। এক কান দিয়ে ঢুকাতে হবে অন্য কান দিয়ে বের করতে হবে এই নীতির উপর বড় নীতি নাই! সে কি চাইলো এটা সে আর তার আল্লাহ ছাড়া কারো বোঝার সাধ্য নাই। হতে পারে এটা বাকীদের ব্যর্থতা। অনেকটা হো থিউরী।
যতকিছুই হোক না কেন সে ভাঙ্গা চোরা মোবাইলটা হাতে নিয়ে বার বার ভাইব্রেশনের অপেক্ষায় থাকবে কারন সে মনে করে না বাকীরা অবুঝ আর তার প্রচন্ড রকম সহ্য শক্তি আছে। আবার এটাও হতে পারে অপেক্ষা করতে করতে সে নিজেই কল করবে। কারন এতে করে যদি অন্তত বাকীরা খুশি হয় তবে সেও খুশি। ত্যাগী চরিত্র আর কি।
শক্ত কইরা একটা গালি দিতে ইচ্ছা করতাছে। কিন্তু গালিটা দিলে তোর প্রতি অবিচার করা হয়। তোর কি কোন চাওয়া পাওয়া নাই, গবেট কোথাকার?
Posted by Iqram