চোখের সামনে যে চরম নির্লজ্জতা; আমাদের সাধুদের কি হবে?

August 1, 2008

একবার ভেবে দেখুন। একটি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সংগঠক ভিন্ন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পেটাচ্ছে। সেই সুত্র ধরে সেই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটা জামাতি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। বিষয়টা এমন যেন, যে মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামী এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাভাবাপন্ন, স্যাকুলারিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা বাংলাদেশে দেখতে চায়না সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কোন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন করার অধিকার নেই। এখান থেকেই পরিস্কার একটি সরল রেখা টানা সম্ভব। মুক্তিযোদ্ধারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত কিন্তু এর দায়- দায়িত্বের আঙুলটি গিয়ে পরছে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর উপর। বিবেক যাদের আছে তারা সকলেই বুঝতে সক্ষম যে মুক্তিযোদ্ধাদেরও রাজনৈতিক চাহিদা রয়েছে আর দশটি সাধারন মানুষের মতোই। প্রশ্ন করা যেতে পারে এই রাজনৈতিক বিবেচনায় যেখানে একজন দলীয় কর্মী ভিন্ন দলীয় কর্মীকে রাস্তায় সাপ মারার মতো মেরে ফেললেও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কলংকিত হয়না সেখানে কি দুই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন হাতাহাতি মারামারি করেলে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কি প্রশ্নবিদ্ধ হবে? এদের সকলেরই এক একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে। সেই বিবেচনায় যদি কোন দলের কর্মী কাউকে দু-কথা শুনিয়ে দেয় তবে কি মুক্তিযুদ্ধ অশুদ্ধ হয়ে যাবে? এদের কি যুদ্ধাপরাধী বলে স্লেশাত্মক গালী দেয়া যাবে? মজার ব্যপার হচ্ছে বামপন্থি দলগুলো বিভিন্ন সভা, সেমিনারে বিবৃতির মাধম্যে এই শেষ কাজটিই করে বেড়াচ্ছে। সাধুদের মিডিয়া পার্টনার ইটিভি এ ব্যপারে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। মিথ্যাচারের দিক থেকে এরা উর্দ্ধে। মিথ্যাবাদীতার ব্যরোমিটারে এদের মিথ্যে মাপা সম্ভব নয়। কথিত ইটিভি চারুকলা, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ জায়গায় অবাঞ্চিত। রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করতে করতে আমারা এমনই করুন সময়ে অবতীর্ন হয়েছি যেখানে আমাদের দেখতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি অবস্থান। অনেকে হয়তো আমাকে হুমায়ুন আযাদের মুক্তিযোদ্ধা রাজাকারের সংজ্ঞা শুনিয়ে দিতে কী-বোর্ডের উপর হুমরি খেয়ে পড়বেন। সাবধান! ভুলেও একাজটি করা ঠিক হবেনা। কারন এ সংজ্ঞা যদি যর্থাতও হয় তবে শুধু আলী আমন নয় সকল মুক্তিযোদ্ধাই এর আওয়তায় পরতে পারেন কিন্তু এযুগে যারা ইসলামী চিন্তাভাবাপন্ন তারা কিন্তু রাজাকার প্রমানিত হবেন না। এর থেকে বড় ব্যর্থতা ইসলাম বিরোধীদের আর কি হতে পারে? ওয়াট সুড নেকস্ট? আমি জানি তবুও উনাদের মাথা খুলবে না। মুক্তিযুদ্ধের দর উনার কষাকষি করেই যাবেন। যার ফল হবে ভয়ানক। তখন একটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নয় বরং হাজারটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ হবে। মুখোমুখি না হয়ে তারা কাঁধে কাঁধ মেলাবে। আর ইসলাম বিরোধীদের খোদাদ্রোহী কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দিবে। যার পথ খুলে দিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ তথা রাষ্ট্রে ইসলাম বিরোধী শক্তির জন্য একটি প্রচির তৈরী করার কাজ শুরু করেছে। আর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ যদি জামায়াত সমর্থিত হয়েই থাকে তবে বিষয়টি আরো ভয়ানক কারণ এ কথাটি দিবালোকের মতোই সত্য যে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধারা পরবর্তী পরিস্থিতে জামায়তের সর্মথক ও কর্মী হিসেবে কাজ করছে। সাধু যদি বুদ্ধিমান হয় তবে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য চাটি মারার প্রয়োজন পরবেনা। অবশ্যই নৈতিকতার অবক্ষয়রোধে ধর্ম অপরিহার্য।


২৮শে অক্টোবর

October 28, 2007

 

আজ ২৮শে অক্টোবর। আমরা যারা ইউরোপে থাকি তারা আজ ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা পেছনে টেনে নেই। যদি একটি বছর পিছিঁয়ে নিতে পারতাম।

আজ ২৮শে অক্টোবর। ভাগ্য ভাল শহীদ মুজাহিদরা একদল হায়নার হাতে দেশ লুণ্ঠিত হতে দেয়নি। নিজের জীবন দিয়ে রুখে দিয়েছে সেই সকল হায়নার ক্ষমতার লোভকে। এই প্রযুক্তির যুগে স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষায় এমন ত্যাগী সন্তান বাংলার বুকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরাই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার মূল শক্তি। গায়ের জোরের রাজনীতি শুরু হয় ৭১ এর স্বাধীনতার পরে। মরহুম মুজিবর রহমানকে ফুলানো ফাপানোর জন্য কিছু চামচা অদ্ভুত এক ত্বত্ত প্রসব করে। যার নাম দেয়া হয় মুজীববাদ। তাদের যুক্তি লিঙ্কন আঙ্কেল গনতন্ত্র এবং স্বাধীনতা দিয়েছে সমাজতন্ত্র দিতে পারেনি। মার্কস সাহেব সমাজতন্ত্র দিয়েছে কিন্তু গনতন্ত্র আর স্বাধীনতাকে কেয়ারই করেনি। এই চামচারা গনতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রকে বিকৃত করে রেখেছে। এই মুজিববাদ নামক বেজন্মা এই মতবাদটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গঠিত হলো রক্ষীবাহিনী। লাল বাহিনী, নীল বাহিনী আর সেচ্ছাসেবক বাহিনীও হানাদার পাকিস্তানীদের ন্যায় নির্যাতন করা শুরু করলো। এখান থেকেই গায়ের জোড়ের রাজনীতি শুরু। আর্মি রাস্তা নামলো, ৭৫ এ রজপাত হলো। ২০০৬ এ কিন্তু ঐ সকল চামচা প্রজাতীরা গায়ের জোড়ে আর লগি বৈঠার ভয় দেখিয়ে তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে এবং ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলো। শহীদ মুজাহিদরা সেটা করতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে দেশের স্বাধীনতা এবং গনতন্ত্র রক্ষার জন্য আবার আর্মি ব্যারাক থেকে বেড়ুলো। সেকালে মেজর জলিলরা নির্যাতিত হয়েছে স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে আর এখন হচ্ছে মুজাহিদরা। নির্বাচনের সময় এলে যারা হেজাব দিয়ে রাঙে ঐ সকল মুজিববাদী ভন্ড গনতন্ত্রের সেবকদের গনতন্ত্রের সবক শহীদ মুজাহিদরা দিয়ে গেছে।

আজ ২৮শে অক্টোবর। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করতে চাওয়া হচ্ছে আজো। দূনীর্তি বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ২৮শে অক্টোবর থেকে মানুষের নজর ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করার প্রয়াস চলছে আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের একটি বানীকে ঘিড়ে। এ বানীটি কিন্তু নতুন নয় সকলেই জানে এবং মানে। বিষয়টি এমন নয় যে নেঙটি পড়ে হাউকাউ শুরু করতে হবে। ইসলাম পন্থিদের বিষয়ে মিডিয়ার এই ভেল্কিবাজী নতুন কিছু নয়। সবাই একটি বিষয় খেয়াল করেছে কিনা যানি না। আমাদের বিজ্ঞ সাংঘাতিক সাংঘাতিক সাংবাদিকগন ঐ বানীর লিফলেট নিয়ে দৌড়ে গেলেন গুপ্ত, সাজিয়াদের কাছে। একজন সাংবাদিকে মাথায় কাজ করলো না যে আমরা যদি যাই তবে আমাদের যাওয়া উচিত একজন প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধার কাছে। কি ধরনের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ৭১ কে ব্যবহার করা হচ্ছে এটা বোঝার ক্ষামতা থাকলে বোধহয় গরু ছাগলও মাথা নিচু করে ফেলতো। ইনু মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে সেটা বিষয় নয়। কিন্তু সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী একজন উগ্র চিন্তা চেতনার মানুষ কি করে গনতন্ত্র বলে ফাল পারে সেটা হচ্ছে বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদারী আমরা আওয়ামী লীগকে দেইনি। যাই হোক গুপ্ত কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আপনার তাদের বিচার করনেনি কেন? উত্তরে গুপ্ত’জি বলেছেন অতীত ভুলে যেত।

আজ ২৮শে অক্টোবর। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দিন পাওয়া কঠিন যেদিন বাংলাদেশে কি ঘটেছে তা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অবলোকন করেছে।

আজ ২৮শে অক্টোবর। আমি অপরাধীদের বিচার চাই। আমার দেশে একটি বিচার ব্যবস্থা আছে আছে প্রশাসন আমার দেশ ৭২ থেকে ৭৫ এর মতো নয়। আমি গন আদালতের ধার ধারিনা। আইন নিজের হাতে তুলে নেই না। মামলা করা আছে। প্রমাণ রয়েছে। স্বাক্ষী রয়েছে। শহীদ মুজাহিদদের হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

আজ ২৮শে অক্টোবর। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ২৮শে অক্টোবর নিয়ে আলোচনা করবো সমালচোনা করবো গল্প লিখবো, কাব্য করবো, দু:খ করবো, দোয়া করবো। আর বিচার পাওয়ার পরেও ২৮ অক্টোবরের এ অওয়ামী লীগের, মিডিয়ার এবং বাংলাদেশের স্টুপিড বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবো সমালোচনা করবো নিন্দা করবো ধিক্কার দিবো। আওয়ামী লীগের মুখোশ উম্মোচন করবোই।

আজ ২৮শে অক্টোবর। প্রতি ২৮শে অক্টোবর আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নামধারী উগ্র ধর্মনিরোপেক্ষ জঙ্গীদের ধিক্কার জানাবো এবং
তাদেরকে গনতন্ত্র এবং মনবতার সবক দিয়ে যাবো।

আজ ২৮শে অক্টোবর। বাংলার মাটিতে ঐ সকল দূনীর্তিবাজ সন্ত্রাসী ধর্ষণকারী অবিশ্বাসীদের স্থান দিবোনা। ব্যালটের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক উপায়ে এদের নিশ্চিন্ন করে দেয়া হবে। যেমনটি ২০০১ এ করা হয়েছিলো। যুদ্ধটা এখনো জিয়ে আছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসীদের।

আজ ২৮শে অক্টোবর। মৌসুমি হেজাবী মহিলার হিংসাকে প্রশ্রয় দিবোনা। হায়নাদের রুখে দিবো। হাফিজের ছড়া আমার পড়া হয়না। তারা একটা ছড়ার
কয়েকটি লাইন তুলে দিচ্ছি:

ছড়ার নাম সংলাপ
মামু, গদি ছাড়া কেমুন করে নির্বাচনে যামু?
ক্যান, বৈঠা এবং লগি!!
ভাইঙগা দিমু গনতন্ত্রের চোদ্দৌগুষ্ঠির বগি,
ভাইংগা দিবোআদালতের শির,
আপমরা হলাম মুক্ত স্বাধীন স্বপ্ন বাবার পীর।
তয় একটু খানি ভয়,
হারামজাদা ভোটারগুলো মনের মতো নয়।

হাজারে চেষ্টা করলেও ২৮শে অক্টোবরের মানবতাহানি এবং দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে তার থেকে বাংলাদেশের জনগনের নজর ভিন্ন দিকে সড়িয়ে নিতে পারবেনা অভাগা অবিশ্বাসীরা।


ব্লগীয় সারমর্ম হায়রে রাজনীতি

May 6, 2007

এই লেখাটা লেখা হয় সামহোয়ার ইন ব্লগে ব্লগিংকে কেন্দ্র করে।

মুক্তি সংগ্রাম। দেশের পাড়া গাঁয়ের চায়ের দোকান থেকে অথবা ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রত ফাস্ট ফুডের দোকানে অফিস বা ক্ষেতের কাজ কামাই দিয়ে চুটিয়ে রাজনৈতিক আড্ডা। কিংবা প্রবাসের গেট টুগেদার পার্টিতে একবাক্যে সবাই বলে ব্যাক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়···। যেখানে যাই সেখানেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা। এইসব আলোচনায় ফেমাস বুদ্ধিজীবি, নিরব বোদ্ধা কিংবা নিতান্তই রোড মাস্টার, তার্কিক, বাচাল সব ধরনের মানুষই থাকে। তেনারা কেউ কেউ শেখ সাহেবের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে আবার কেউ আবার কেউ কেউ জিয়ার অথবা তার বিবির গোলাপী সাড়ীতে কাঁদা মাখাতে ব্যাস্ত থাকে। রাজাকার ইস্যু আসলে এক একজন দেশ বলতে বলতে হার্ট এ্যটাক করে। কেউ আবার ছাত্র- শিক্ষককে দায়ী করে। কেউ দোষ দেয় আমেরিকা, ভারত, বৃটেনের। আবার কেউ দোষ দেয় বাংলাদেশীদের খাসলতকে। তখন নিজেদের ৩২ গোষ্টী উদ্ধার করতেও আমরা পিছপা হইনা। কেউ কেউ আবার সম্রাট আওরঙ্গোজেবকে টেনে আনেন। সকাল বিকেল জোয়ার ভাটার মতো উঠা নামা করে এক একজনের আবেগ। একজনকে ৯৭ ভাগ ভোট দিয়ে হিরো বানানো হয় তার মৃত্যুর পরেই আবার সকলে আল্লাহর শুকুর গুজার করে। কারো মতে দেশের উন্নতীর বাধা ইসলাম যাকে অনেকে ট্রিট করতে পছন্দ করে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ। কেউ কেউ আবার সরাসরি জামায়াতে ইসলামীকে টেনে আনে। কেউ কেউ আরেকটু আগ বাড়িয়ে ইসলামকেই একটি জাতীর উন্নতীর পথে বাধা মনে করে। যত্তসব মাথা গরম করনেওয়ালাদেও স্থান ঐ ইসলামের ছায়াতলে! ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করাটা হারাম। আল্লাহর শেষ নবী নাকি বলে গিয়েছে এই কথা। কারো মতে হাফাজ্জী- আমিনী টাইপের চিন্তটাই ব্যাকডেটেড, সংসার বিমুখ। কারো কাছে ধর্মহীনতা, নাস্তিকবাদটাই যত নষ্টের মূল। শত যুবকের জীবন নষ্টকারী সমাজতন্ত্রও আছে এর মাঝে। অনেকে রাগে তারাতারি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। আবার কিছু কিছু যায়গায় হাতাহাতিও হয়। মাই ওয়ে ইজ দ্যা হাই ওয়ে। আমাদের মাঝে অপরেরটা গ্রহণ না করার রোগ আছে। হতে পারে সে সাদা চামড়ার আধো ন্যাংটো ককেশীয়ান অথবা আলখেল্লা পরে মাথাতে খাপছা মারা আরব কিন্তু সারমর্ম হচ্ছে আমাদের আরো শোনা উচিত বলা নয়। আরো পড়া উচিত লেখা নয়। ডিগ্রীতে নয় জ্ঞানে বড় হওয়া দরকার আমাদের। আমাদের মাথা গরম। ৯২- ৯৩ এর গোলাম আযম ক্রেজ ছিলো। তাকে নিয়ে কিনা হয়েছে সে সময়। কি লাভটা হয়েছে বরং খুজলে হয়তো পাওয়া যাবে কয়েকজনকে যারা তাকে নিমূর্ল করতে গিয়ে নিজেদের ছাত্রত্ব নিমূল করেছে। আমরা নিজের দলের নেতাদের অন্ধভক্ত কিন্তু অন্য নেতাদের ছায়াও আমরা দেখতে পারিনা। হতে পারে যে কারণে আমরা তাদেও ঘৃণা করি তা মিথ্যাচার। কিন্তু একবারো কি আমরা জানতে চেয়েছি যে নেতাকে আমরা ঘৃণা করি তার মধ্যে এমন কোন গুন থাকতে পারে যা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হতে পারি। পশ্চিমারা স্বার্থপর, শয়তান, প্রতারক এ ব্যপারে কারো দ্বিমত থাকার কথা না কিন্তু তাদের মাথা গরম না।

আমরা অনেক বুদ্ধিমান জুতার ফিতার গিট্টু মারা থেকে হার্ড বা সফট জেল দিয়ে আমরা চুল আচড়াতে পারি। আমাদের মাঝে মেধার অভাব নেই, এটা দিবালকের মতই সত্য। সাথে সাথে আমরা সাহসীও। জানি আমরা নানান যুক্তি, তত্ব এবং তথ্য। কিন্তু একবারো ভাবিনা একজনের দিকে আঙুল তুলে যখন শান্তির ঢেকুর তুলি তখন হাতের বাকী আঙুলগুলো নিজের দিকে থাকে। অন্যকে সেকেলে অথবা বর্জুয়া বলে বসি। সকল কিছুতে আমার জয় নিজেদের জয় জয়কার চাই। রাস্তা ঘাট, কার্লভার্ট, চেয়ার টেবিল, গাছের পাতা, নদীর মাছ, মুরগী খামার সবখানেই আমার নাম, আমার সুনাম, কতিত্ব বজায় রাখতে হবে নইলে আমি দেউলীয়া। শ্রেফ রোগ এটা।

এই সব অনুষ্ঠানে যাবার সুযোগ হলে যাই আর চুপচাপ থাকি মাঝে মাঝে দাঁত কিড়মিড় করে উঠে। ঠোঁটও কামড়াই। আবার মাঝে মাঝে শক্ত করে হাসি চেপে রাখি। আর মনে মনে বলি আমার প্রিয় ফেমাস বুদ্ধিজীবি, নিরব বোদ্ধা কিংবা নিতান্তই রোড মাস্টার, তার্কিক, বাচাল ভাই (ও বোনেরা) মেজাজ ঠান্ডা রাখুন। নিজের পরিমন্ডল থেকে বেড়িয়ে আসুন, খাবার দাবার ঠিকমতো খান, নিয়োমিত ঘুম পাড়ুন, প্রাতক্রিয় ঠিকমতো সাড়ছেন নাকি খেয়াল করুন। ঠিকমতো না হলে যথেষ্ঠ পরিমাণে পানি পান করুন। শাক- সবজী খান এবং হাসি মুখে থাকুন। আর অন্যকে জানার চেষ্ঠা করুণ অন্যকে বোঝার চেষ্ঠা করুণ। যেতে যেতে আমাদের একটা নমুনা নিচে দিয়ে গেলাম।

একটা বই দেখে রহিম বলবে আমি এর চাইতে ভালো বই লিখতে পারবো। করিম বলবে শালা তুমি বই লিখতে পারবা না। তোমার বাপ- দাদা কোনদিন অ, আ লিখছিলো? আর আবুল বলবে বাপরে বাপ এই বই একমাত্র মহাপুরুষই লিখতে পারবে। আমার মতো ছোট মানুষের কাজ এটা নয়। ছাগলের দল! সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের তরতাজা ঘাসের এ্যাডভান্টেজ যদি এটা হয় তাহলে এই সবুজ শ্যামলের দরকার নাই আমার। আমাদের মাথাতে বুদ্ধি আছে কিন্তু মাথাটা বড্ড গরম তাই কিছু করতে পারি না। তাই আমরা মুক্তির জন্য সংগ্রামই করে গেলম কিন্তু সেই সংগ্রামে জয় আজও পেলাম না।