দিন বদলের পালা

February 10, 2008

সবকিছুর একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। লক্ষ্য করছি বলছি কারন পরিবর্তনগুলো খুব র‌্যাডিকাল। গ্রাফ পেপারে যদি স্কেচ করা হয় তবে পিচ্চি আহরাজ’টাও এসে বলবে তুমি নিচ থেকে উপরে এতো জোড়ে টান দিলে কেন? যাই হোক, আনেক কাজ জমা পরে গেছে। অনেক কিছু মাথার মধ্যে উঁড়ে বেড়াচ্ছে। কয়েকজন খুব করে ধরেছে ছোট ছোট কয়েকটি সহযোগীতার জন্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মিস্টার এক্স আর মিস ওয়াই দুজনই দুজনের অবস্থান থেকে যুক্তিপূর্ন আর তার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে তারা আবেগী তাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে। আবেগী মানুষকে কোন বিষয়ে বোঝানো কঠিন। আমি যে খুব বড় বোঝানেওয়ালা ব্যাপারটা আসলে তা নয়। আমি হচ্ছি তাদের বোঝানোর প্রাথমিক লেভেল। আস্তে আস্তে এটা হয়তো তাদের খালু চাচা জেঠাদের কানে গিয়ে পৌছুবে। মনে মনে ভাবি আজ হোক কাল হোক তাদের কানে যেহেতু পৌছুবে তবে আমি কেন বিচারকের গুরু দ্বায়িত্ব কাঁধে নেই। তাই এড়িয়ে চলা শুরু করেছি। ধর্য্যশীল এবং ছাড় দেয়ার মনোভাব থাকলে নিজেরাই বিষয়টি মিটমাট করে ফেলতে পারে। তাহলে আর রাস্তাতে বেড়ুলে তাদের বলতে হবে না, ঘরের কথা পরে জানলো ক্যামনে?

চুলটা আগেই মোটামটি বড় ছিলো তার সাথে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি উঠেছে কাটবো কি কাটবোনা করতে করতে না কেটেই কাজের উদ্দেশ্যে চলে গেলাম। সাড়া ময়দান খালি শুধু থুতনি বরাবর কিছু দাড়ি। মানুষ মনে করে ছেলে ফ্যাশন করছে। কি যেন নাম আহা ফ্রেঞ্চ কাট! আরে বাবা তোকে আমি কি করে বোঝাই? মনে মনে বলি ওরে নচ্ছের এসে দেখে যা আমার থুতনি আর নাসিকা রদ্ধির নিæ ভাগ ছাড়া দাঁড়ি মোছ গজায় না। থাক সে কথা কাজে যেতে হবে। রাত ৮টা থেকে ডিওটি শুরু। এমপি থ্রিতে ইউসুফ এস্টেস এর লেকচার শুনতে শুনতে যাচ্ছি। মেট্রোতে যেতে বেশী সময় লাগেনা। তিনটি স্টেশ্যন মাত্র। কাজে ঢুকতেই হোসেঈন ভাই বললেন কি হে কাঠুরীয়া। খুব রসিক মানুষ উনার সাথে দেখা হলেই একটা না একটা নতুন নাম দেন আমার। উনি বয়ান শুরু করলেন এই কাঠুরীয়া নামের। আমি কাজ শুরুর আগে হিসাব আর নতুন নোটগুলো বুঝে নিচ্ছি আর উনার কথা শুনছি। এতে তো ফিরিস্তি দিতে পারবোনা তাই সারমর্মই সই। সারমর্ম হইলো আমার খোঁচা দাড়ি আর এলোমেলো লম্বা চুলের জন্য নাকি আমাকে কাঠুরে কাঠুরে লাগছে। উনার ডিউটি শেষ তারপরেও উনি আমার সাথে আলাপ করার জন্য কিছু সময় রয়ে যান। প্রচন্ড রকম কথা বলেন। আমি জানিনা এই ব্লগের কেউ বলিউডের ”ভেঁজা ফ্রাই” ছবিটি দেখেছে কিনা। যারা দেখেননি তার সময় থাকলে দেখতে পারেন আর যারা দেখেছেন তারা বঝুন আমার অবস্থা। প্রথম প্রথম প্রচন্ড অসহায়বোধ করতাম পরে গা সওয়া হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বলে ফেললাম ”ভাইয়া, ভাবী বাসাতে ওয়েট করছেনা?” একটু হতাশ হলেন মনে হয় কিন্তু তিনি বুদ্ধিমান বিষয়টি ঘুড়িয়ে নিয়ে বলে বসলেন আরে তাইতো, গুড়ো মশলা নিতে হবে বাসার জন্য। আমি কিছু না বললে হয়তো উনি চা বানিয়ে এসে বসতেন গল্প করার জন্য। মানুষটাকে অদ্ভুত লাগে। খুব সাদাসিদে মানুষ শুধু কথা একটু বেশী বলে এই যা। সরি হোসেঈন ভাই আমার সত্যি অনর্থক কিছু শোনার মতো মুড ছিলো না। কাজ শুর করলাম। আমার তিন দিকে বুলেটপ্র“ফ গ্লাস দিয়ে ঘেড়া ছোট একটি কামড়া। প্রথম কাজ হচ্ছে সবগুলোর টাকার এক্সচ্যাঞ্জ রেট আপডেট করা। তারপরে রাত ২টা কিংবা তার কিছু পর পর্যন্ত কাজ আর কাজ আর কাজ… … …

সোমবারেও আমার অনেক কাজ। আমার একাউন্ট চ্যাঞ্জ করতে হবে। আমার একাউন্ট আবার বিখ্যাত সোসাইটি জেনারেলে। ৭ মিলিয়ার্ড ইউরোর ঘাপলা পাকিয়েছে ব্যাংটি। অধিকাংশ অর্থই নাকি চলে গেছে ঈসরাইলে। দেখা যাক আরো কি বেরুয় তদন্তে। না না না আমি মোটেও ভয়ে একাউন্ট চেঞ্জ করছিনা। প্রথম কারন হচ্ছে আমি আগে যেখানে একাউন্ট খুলেছিলাম সেখান থেকে চলে এসেছি। এখন যেখনে আছি সেখান থেকে আমার ঐ ব্রাঞ্চের কমিউনিকেশন খুব জটিল এবং যাতায়ত সময় স্বাপেক্ষ ব্যাপার তাই এখন যে খানে আছি তার আশে পাশের ব্রাঞ্চে একাউন্ট ট্রান্সফার করার জন্য গিয়েছিলাম কথা বলতে। যে ভদ্রমহিলাটি টেবিল ওকুপে করে রেখেছে উনি বললেন “দুঃখিত মার্চের ২৬ তারিখ পর্যন্ত কোন এপয়েন্টম্যান্ট নেই।” আমি বললাম ওকে আমি দেখছি কি করা যায়। ১০০ গজও যায়নি দেখলাম এল সি এল ব্যাংক। ঝোঁকের বসে ঢুকে বললাম ্একাউন্ট খুলবো। ঘাটাঘাট লগ বই দেখে বললেন ১২ তারিখ ১৫:৪৫ এ কনদেমিনি এমিলি’র সময় আছে আপনি আসতে পারবেন নাকি? হা পারবো। এই হলো কাহিনী। একাউন্ট ট্রান্সফার করতে যে সময় লাগছে তার এক ভাগ সময়ও লাগছেনা নতুন কোন ব্যাংকে নতুন একাউন্ট খুলতে। এই সুবিধাটি আমি না নিয়ে পারলাম না। অবশ্য এই মাসে সোসাইটি জেনারেল আগের চাইতে ১ ইউরো ২৩ সেন্ট বেশী কেঁটে নিয়েছে একাউন্ট চার্জ বাবদ। ৮০ লক্ষ্যের কাছাকাছি এস.জি’র গ্রাহক। অন্যগুলো চার্জ বাদ দিলাম শুধুমাত্র একাউন্ট চার্জ বাবদ পরিমানটা কততে দাড়ায় বুঝছেনতো। মনের মধ্যে অবশ্য খুঁতখুঁিত আছে এই ঘাপলার ভুর্তূকী কি গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করবেনা? সব অপারেশনের চার্জ তারা বাড়িয়েছে এটা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে অবশ্য কোন কারণ উল্ল্যেখ করেনি তারা। যেটা বেশী চোখে পরার মতো সেটা হচ্ছে এ.টি.ম.মেশিন ছাড়া আমার ব্রাঞ্চ থেকে সড়াসড়ি ১০০০ কিংবা তার উপরে ইউরো তুলতে গেলে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে তাদের ইনফর্ম করতে হবে। এটার কারন হতে পারে তাদের লিকুইডে আসলে ঘাটতি পরেছে।

ওমরদের গাড়িটা তাদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। বিরাট সমস্যায় পরে গিয়েছি। আগে রাত আট’টার পরে পর্কিং ফ্রি ছিলো। কিছু কিছু ছোট রোডে পার্কিং ফ্রি ছিলো এখন আর এমনটি নয়। রাত আটটার পরেও পার্কিং টিকিট লাগাতে হচ্ছে। পরপর দুদিন দুটটি ছোট খাট এমাউন্টের কেস খেয়ে গাড়ি চালানোর সাধটা দমে গেছে। রাজ্যকোষ মোটাতাজাকরন মসিউ সারকোজি আইন এটা। তাওতো ভাল যে উনার শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে শেষ পর্যন্ত উনি বিবাহ কর্ম সম্পাদিত করেছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় সফরে উনার বান্ধবীকে নিয়ে প্রটোকলে বিরাট সমস্যা হচ্ছিলো। ভারততো বলেই বসেছে। পাঁচদিনের সফর কেটেছেটে দু’দিনে এনে পরলেন আমাদের রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট সাহেব। এই ব্লগের সুশিল সমাজের কথা খেয়াল করিনি। কিন্তু এখানকার মেঁদ ভুঁড়িওয়ালারা করা সমালোচনা করেছেন। আবার এরাই পার্টানাশীপ ফর্মূলার জন্য আন্দোলনে অগ্রজ। ফ্রান্সে পার্টানরশীপ সরকারীভাবে বৈধ হলে কেন রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট পার্টনার রাখতে পারবেন না? কেন বিয়ে করতে হবে তাকে? চিন্তা হচ্ছে যদি সোসালিস্ট পার্টিও সেগলিন রোয়াইল কে নিয়ে। ভদ্রমহিলা প্রেসিডেন্ট হলে কি হতো? উনিতো আগে থেকেই পার্টনার এবং তার বৈদলতে পাঁচ সন্তানের জননী। যা হোক বুর্জোয়া বলে কথা। আর কঙ্কুবিনাস তাহলে গর্হিত একটি কাজ। অথবা রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট আইনের উর্ধ্বে। আগের কথায় ফিরে যাই, মসিউ সারকোজির চাইতে দশ সেন্টিমিটার উঁচু কার্লা ব্র“নিকে নিয়ে আমার আফসোস হচ্ছে। তার বাৎসরিক আয় ছিলো ৭০ লক্ষ পাউন্ড। কিন্তু ফাস্ট লেডী হওয়ার পরে তার এই আয় আর থাকছেনা, সেটা কমে যাচ্ছে। বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর কি চুক্তি শেষ? কিংবা সে কি নতুন একটা এলব্যাম বের করতে পারবেনা, যেখানে থাকবে মসিউ সারকোজিকে নিয়ে কোন গান? সে যে খোলামেলা জীবন যাত্রায় অভস্থ ছিলো তা সে হারাচ্ছে। যদিও সম্মানের দিক বিবেচনা করলে র্ফাষ্ট লেডি হতে পারাটা অনেক কিছু। কিন্তু সে কি তার জীবন যাত্রায় এতো র‌্যাডিকালি খাপ খেতে পারবে নাকি এই র্টামেই আরেকটি ডির্ভোস দেখে হবে সারকোজির ভোটারদের, সেটা এখন দেখার বিষয়। যাই হোক উনারা সূখী হউক এই কামনা করাটা দোষের কিছু নয়। আরো আফসোস লাগছে হয়তো বার্নাদেদ শিরাকের কাছে! রাতে কুনুই দিয়ে গুঁতো মেরে মনে হয় জ্যাক শিরাককে বলছে “দ্যাখো ভালবাসা কারে কয়”। আরো একটি আফসোসের পাত্রী হচ্ছে সিসিলা বেচারী তার আত্মজীবনী লিখলেন কিন্তু সারকো সরকার সেটার পাবলিশ আটকে দিলো। আদালতে দেনদরবার করে যাও পারমিশন আনলো কিন্তু তাতে সর্ত জুড়ে দেয়া হলো। অনেক সেন্সর করে পাবলিস করতে হলো বইটি। আদালত এই মতে পৌছোলে যে, যেহেতু এটা তাদের পারিবারিক ইস্যু আই মিন ঝগড়াঝাটি এবং সারকোজি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট তাই সরকার এবং রাষ্ট্রের উপর যেন এটার প্রভাব না পরে তাই আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলো যে ছাপায়তে পাড়িবা মাগার কাঁটছাঁট করিয়া। নতুন আরো নিউজ বেরুচ্ছে সারকোজি সাহেব প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও আগের সরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একই সাথে দুটি বেতন গ্রহণ করিতে ছিলেন। এগুলো দূর্নীতির কথা এগুলো থাকুক। কিছুদিন আগের কথা জেলেরা তাকে মুখের সামনে বলে দিয়েছে “অঙ্কুলে”। বিশ্বাস না হলে এখানে চাপুন। পর সমাচার এইযে উনি র্কালা ব্র“নিকে নিয়ে ভাল থাকলেও আমার বন্ধু বেনজমিনকে মাসের ১৭/১৮ তারিখ থেকে বাকেট হাতে বাড়ী ফিরতে দেখতে হবে। আগেও তার করতে হতো কিন্তু তা মাসের ২৫/২৬ তারিখের দিকে। বেচারা মনে হয় ব্লাইন্ড ডেটেও যেতে পারবেনা এ মাসে। কারণ ট্রান্সর্পোটেশন থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু তার বেতন যে হারে বাড়া প্রয়োজন ছিলো তা বাড়েনি। তাও যে সে মাসে চারবার ডিসকোট্যাগে যাওয়াটা কমিয়ে আনবে সেটার কোন লক্ষণ তার কথাবর্তায় দেখিনা। কামলা দিচ্ছেতো দিচ্ছেই… দিচ্ছে তো দিচ্ছেই… আরো যেটা কটু লাগে সেটা হচ্ছে ফ্রান্সের ক্যাফে বার, রেষ্ট্রুরেন্ট সবখানে ধুমপান হারাম করা হয়েছে। বেনজেমিনকে দেখি শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে রেষ্ট্রুরেন্টের বাইরে দাড়িয়ে সিগারেট টানছে। বুঝতে পারছিনা আমার কি হাসা উচিৎ না সমবেদনা জানানো উচিৎ? সাড়া ফ্রান্স সহ আমি নিজেও সার্কো মিনিয়ায় ভূগছি। এক কথায় বলা যায় সার্কো ফোবিয়া।

আগের মতো আর দিন নেই। দিন বদলে যাচ্ছে। বাই ওয়ান এন্ড গেট ওয়ান ফ্রী এর যুগ মনে হয় শেষ হয়ে যাচ্ছে ফ্রান্সে। লেখাটার নাম দেয়া দরকার ছিলো ইলাস্টিক। আজ এতোটুকুই থাকুক আর টানবোনা… টানছি তো টানছিই। আসল কথা হচ্ছে দিনগুলো সত্যি বদলে যাচ্ছে। এই একটা লাইনের জন্যই এতো টাঁনাটাঁনি। আর হ্যাঁ চুল দাঁিড় কাটবো নাহলে হয়তো সক্কাল সক্কাল আয়নার সামনে দাড়ালে দেখ যাবে কোন এক কাঠুরীয়া হাই তুলতে তুলতে মাথা চুলকাচ্ছে আর আঁড়মোঁড় ভাঙছে!


ঈদ মুবারাক

October 12, 2007

ঈদ মুবারাক,

হয়তো আমার ঈদের শুভেচ্ছা সিদ্দিকা কবীরের স্বাদের খাবারের মতো নয় কিংবা টমি মিয়ার রুই ভাজীর মতো নয় হয়তোবা সঞ্জীবের কাবাবের মতো অথবা কেকা ফেরদৌসীর ভিনদেশী রান্নার মতো নয়। তাতে কি? বার্জারের মতো রং ছুয়ে যায়না হয়তো। এ্যাডভান্সড ডেভলাপদমন্ট ট্যাকনোলজির মতো ট্যাকনোলজি ওরিয়েন্টড নয় হয়তো। রেডিও ফূর্তীর মতোও নয়। নয় বাংলা লিংকের ফিসফিস আলাপের মতো। কে ক্র্যাফট এমব্রয়ডারি পাঞ্জাবী বা ড্রিম ফ্যাশন হাওসের ফতুয়া বা গ্রামীনের চেকের মতো নয়। নয় রূপালগির খাদি ফতুয়া। ক্যাটস আই এর পাংকু সার্ট এর মতোও নয়। লিভাইসের জিনসের মতোও নয়। বাটার জুতার মতোও নয়। নোকিয়া বা সনি এরিকসন এর নতুন মডেলের মবাইলের মতোও নয়। সিঙ্গারের সাদা-কালো থেকে ২৪ ইঞ্চির রঙীন টেলিভিশনের মতোও নয়। হয়তো হেড এন্ড শ্লোডার অল ক্লিয়ারের মতো নয়। হয়তোবা ওটবি বা ইকিয়ার ওর্য়াল্ডক্লাস ফার্নিচারের মতো নয়। হয়তো শেলটেকের মতো টেকশই নয়। হয়তো এল.জি’র ঈদ গুড লাকের মতো নয়। হয়তোবা হাঁস মার্কা গন্ধরাজ বা তিব্বত কদুর তেলের মতো সুগন্ধি নয়। ফ্রেশ সয়াবিন তেলের মতো উপাদেয় নয়। হয়তো রুচি ডাল ভাজার মতো রুচিসম্পন্ন নয়। লিপটন বা নেসক্যাফের এক মগ গরম পানীয় অথবা কোকাকোলা বা মক্কাকোলা দিয়ে দিল ঠান্ডা করার মতো নয় হয়তো। হয়তোবা রাধূনী গুড়ো মশলার মতো নয়। ফ্রান্সের পারফিউমের বা এয়ার বাস এর মতো নয়। নয় ইংল্যান্ডের সুটের মতো। নয় ইটালীর জুতা আর বেলজিয়ামের ক্রিস্টালের মতো। সুইস ফ্রাংকের মতোও নয়। সৌদী আরবের খেজুর খুরমার মতোও নয়।

তাতে কি, আমার ঈদ মোবারক একেবারে সাচ্চা দিলের ঈদ মোবারক। সবাইরে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ঈদর শুভেচ্ছা। রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ…

ছয় ঈদ পার করা বাসি সাদা পায়জামা পাঞ্জাবীটা কেয়া সুপার বিউটি শপের কাছে দিয়েছিলাম। মার দিয়ে ইস্ত্রি করে রেখেছে রাতে বাসায় যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে যাবো। পরশুদিন প্রথম জামাত ধরার ইচ্ছে। শাওনকে ফোন করছিলাম বললো, ভাইয়া শুক্রবার হলে হাজির হতে পারতম কিন্তু শনিবার সাড়াদিন কাজ…

আমি শুধু বললাম ‘বোন ফেত’।।