পর্দার অন্তরালে ব্র্যাক

September 28, 2008

স্ত্রীর নেয়া ব্র্যাকের ঋণের টাকার জামিনদার হওয়ায় প্রাণ দিতে হয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দরিদ্র রিকশা চালক আবদুর রশিদকে (৫০)। বুধবার সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ব্র্যাক কার্যালয়ের পেছন থেকে একটি নারিকেল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর থেকে ব্র্যাক ম্যানেজারসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা একে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগণ্ডা গ্রামের দরিদ্র রিকশা চালক আবদুর রশিদের স্ত্রী মোমেনা বেগম ব্র্যাক থেকে দুই দফায় ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেয়। সুদে-আসলে এ ঋণ ৩৫ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এ টাকা শোধ করতে না পেরে মোমেনা বেগম কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম চলে যায়। ব্র্যাক কর্মকর্তারা ঋণগ্রহীতা মোমেনা বেগমকে না পেয়ে তার ঋণের জামিনদার স্বামী আব্দুর রশিদকে মঙ্গলবার দুপুরে ব্র্যাক চৌদ্দগ্রাম অফিসে ধরে নিয়ে আটকে রাখে। বুধবার সকালেই রশিদের মৃত্যুর খবর আসে।

ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার আহমেদ শরীফ বলেন, ম্যানেজার শ্যামল, শাহীন ও নাইটগার্ডকে খুঁজে পেলে ব্যাপারটি জানা যাবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
Advertisements

সুশীলের আক্কেল দাঁত

September 12, 2008

মীনা ফারাহ পেশায় দন্ত চিকিতসক। পিতৃ পরিচয়ে ব্রাক্ষণ। ফরহাদ রেজাকে বিয়ে করে মুসলিম নাম নিয়েছিলো। বছর খানেক আগে তার আক্কেল দাঁত গজিয়েছিলো। দেশে (শেরপুরে) ফিরে সে শেরপুরের যুদ্ধপরাধী নামে একখান ডকুমেন্টরী করে আমাদের সেনাবাহীনি প্রধানের কাছে সোর্পদ করেছিলেন। হঠাত হঠাত করে তার আক্কেল দাঁত উঠে। আরেকবার উঠেছিলো তখন মেজর জিয়াকে হিটলারের সাথে তুলনা করে একটি বইও লিখেছিলেন। দন্ত চিকিতসক হওয়ার জন্যই কি তার ঘন ঘন আক্কেল দাঁত উঠে কিনা তা বলতে পাচ্ছি না। 

গত কয়েকদিন আগে তার আবার আক্কেল দাঁত উঠেছিলো।
এবারের আক্কেল দাঁতটি খুবই স্পর্শকাতর।
এবারের আক্কেল দাঁত তার ছেলেকে নিয়ে। শাফায়েত রেজা জয় তার ছেলের নাম। ধর্মে একজন মুসলমান। খবর পেলাম তার ছেলে সড়ক দূর্ঘটনায় কয়েকদিন কোমা’তে থেকে মারা গেছেন। মুসলিম ধর্মানুসারে তার লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিলে মিনা ফারাহর আক্কেল দাঁত সেখানে বাধ সাজে। মীনা ফারাহর জেদের কারনে তাকে হিন্দু ধর্মানুসারে সতকার করা হয়। কি করুন পরিস্থিতি! সুশীলের পুত্র হওয়াতে কি করুন পরিস্থিতিতে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। শাফায়েতকে যদি একবার পৃথিবীতে আনা হতো সে তার সুশীল মা’কে কি বলতো?
পৃথিবীর সাঁড়ে তিন হাত জমিনও তার পাওয়া হলোনা। হায়রে সুশীল!


ছবি কথা বলে

August 26, 2008

আজ কোন মন্তব্য নয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার এই ছবির মাধ্যমেই প্রকাশ পাচ্ছে। ১/১১ আরো পরিস্কার হলো।


বিধ্স্থ হতে চলেছে দক্ষিন ওসেটিয়া

August 13, 2008

মানব জাতীর কলংক দেখার জন্য বিবিসি, সিএনএন, আল- জাজিরা খুলে বসে আছি আজ সাড়া দিন। চায়ের কাপের সাথে টোষ্ট বিস্কুট চিবুচ্ছি। কোন বিবেক নাড়া দেয় এমন একটি পরিস্থিতিতেও সাধারণ টোস্ট বিস্কুটের ড্যাম হয়ে যাওয়াটা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। নতুন টোষ্ট বিস্কুট কিনে আনবো কিনা ভাবছি। চা পানের আগে পানি খাওয়াটা জরুরি মনে হওয়াতে পাশের জনকে পানি আনার জন্য বিনয় করলাম। সমস্ত পরিস্থিতি একটি ডোন্ট কেয়ার ভাব চলে এসেছে। অথচ আমি বসেছি এটা বোঝার জন্য যে জর্জিয়া আর রাশিয়াতে কি ঘটছে, কি ঘটছে ঐ দক্ষিন ওসেটিয়ার ছোট্ট সীমানাটিতে। দূর্ভাগ্য আমার না কার কে জানে? নিউজ চ্যানেল এর কল্যানে সেনাবাহিনী নামক হিউম্যন রোবট এর কর্মকান্ড তথা যুদ্ধ দেখতে দেখতে এমন অবস্থা হয়েছে যে কোন কিছুই এখন অন্তরে দাঁগ কাটতে পাড়ছেনা!

এই যুদ্ধের কারনটি কি? ৯২ এ দক্ষিন ওসেটিয়া আলাদা হয়ে যায় জর্জিয়া থেকে। ৭০,০০০ জনসংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভাগেরও কম জর্জিয়ান। জর্জিয়ার দাবি এটা তাদের অংশ ছিলো এবং তাই দক্ষিন ওসেটিয়াকে বৃহত্তম জর্জিয়ার অংশ হিসেবে তারা পেতে ইচ্ছুক। বিষয়টি বোঝার জন্য সহজ করা হলে যা  দড়ায় তা হচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের অংশবিশেষ ছিলো তাই বাংলাদেশকে ভারত অঙ্গ রাজ্য হিসেবে চায়। জর্জিয়ার রক্তপাতহীন বিপ্লবের পরে মাইকেল সাকাসভেলির ইচ্ছেগুলোর অগ্রভাগে ছিলো দক্ষিন ওসেটিয়া এবং আবকাজিয়কে জর্জিয়ার সাথে একত্রিভূক্তকরণ। জর্জিয়া শুরু থেকে  দক্ষিন ওসেটিয়ার স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। দক্ষিন ওসেটিয়ার সংস্কৃতিক পরিচয় উত্তর ওসেটিয়ার যেটা এখনো রাশিয়ান ফেডারেশনের আওতায়। রাশিয়া এখানে লিবারেটর হিসেবে আর্বিভূত। রাশিয়ার যে কোন ইন্টারেস্ট নেই বিষয়টি আবার সেরকমও নায়। দক্ষিন ওসেটিয়ার সরকার রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। বাৎসরিক বাজেটের বিরাট একটি অংশ রাশিয়া দক্ষিন ওসেটিয়াকে দিয়ে থাকে। রাশিয়ার সরকারী গ্যাস কোম্পানী বিশাল অংকের বাজেট দক্ষিন ওসেটিয়াতে বিনিয়োগ করেছে। দক্ষিন ওসেটিয়ার ৭০ ভাগের উপরের জনসংখ্যা রাশিয়ান পাসর্পোট ব্যবহার করে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আক্রমনে যেখানে নিরিহ জনগন মৃত্যবরণ করছে। শরনার্থী আশ্রয় নিচ্ছে রাশিয়াতে। সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষিন ওসেটিয়ার নিরাপত্তার বিষয়টি রাশিয়ার দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়। যুদ্ধটি ইনটেনশালি না তবে একটি ছুঁতোর প্রয়োজন ছিলো।

আমরা যদি একটু মূলে যাই তাহলে যা দেখা যায় তা হচ্ছে, ২০০৩ এ মাইকেল সাকাসভিলির বিজয়ের পরে থেকে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার বৌদলতে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে জর্জিয়া পায় বিপুল পরিমানে অর্থ। ওয়ার অন টেররিজমের আওতায় জর্জিয়াকে দেয়া হয় আধুনিক সমর কৌশলের অনুশীলন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, জার্মানী এবং রাল্টিক দেশ থেকে জর্জিয়া বিপুল পরিমানে অস্ত্র যার পুরোটাই ফ্রি। মাইকেল সাকাসভেলির আসার পরেই জর্জিয়ার সামরিক বাজেট বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে আজারা হস্তগত করে নেয়ার ফলে দক্ষিন ওসেটিয়া, আবকাজিয়ার মতো এলাকাগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এটা ২০০৪ সালের ঘটনা। সাকাসভিলির পেছনের শক্তি ওয়াইট হাউস মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। এবার নজর গিয়ে পরে দক্ষিন ওসেটিয়ার দিকে। সাকাসভিলি সেখানে জর্জিয়ান এবং ওসেটিয়াদের মানবিক সাহায্য দেয়ার প্রস্তাব করে এবং স্বায়েত্তশাসন দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে জর্জিয়ান পুলিশ দক্ষিন ওসেটিয়া সংলগ্ন একটি বাজার বন্ধ করে দেয় যা ছিলো রাশিয়ার একটি গুরুত্পূর্ন বাজার যেখানে করমুক্ত পন্যের ব্যবসা হতো। এর সূত্র ধরে দক্ষিন ওসেটিয়া রাশিয়া এবং জর্জিয়ার স্থলপথ বন্ধ করে দেয়। ৬ই জুলাই রাশিয়ান একটি কনভয়কে জর্জিয়ান শান্তিরক্ষা বাহীনি আটক করে। পরিস্থিথি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তারপরের দিনই ৫০ জনের একটি জর্জিয়ান শান্তিরক্ষা বাহীনিকে দক্ষিন ওসেটিয়া নিরস্ত্র এবং আটক করে। এ অবস্থায় সাকাসভিলি শান্তি আলোচনায় যেতে অস্বিকার করে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুর করে যার ফল এই যুদ্ধ।

মজার ব্যাপার হলো সংবাদ মাধ্যমগুলো কিন্তু এবারো ওয়াইট হাউজনীতি থেকে থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি। তারা বুশের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে। কলংকিত রাজনীতিটাই এই যুদ্ধের মূল ইস্যু। যুদ্ধটি যতনা রাশিয়া জর্জিয়ার তার চেয়ে বেশী রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের। মাঝ থেকে দক্ষিন ওসেটিয়া যুদ্ধে বিদ্ধস্ত হবে। বোঝা মুশকিল এটা এ সময়কার স্নায়ুযুদ্ধ কিনা কারন এখন পর্যন্ত নেতারা মৌখিকভাবে আস্ফালন দেখাচ্ছেনা যতটুকু দেখানো প্রয়োজন একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জন্য। বুদ্ধিমান প্রানী মানুষ হিসেবে এটা খুবই কষ্টকর ব্যপার যে তিনটি দেশের একটি দেশও এর একটি শান্তিপূর্ন সমাধানে না এসে এর দায়িত্ব দিয়ে দিলো সেনাবাহীনির উপর। বিষয় হচ্ছে কোন রাষ্ট্রে আজ পর্যন্ত সেনাবাহীনি কোন সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।

সবথেকে হাস্যকর হচ্ছে এ যুদ্ধটি তখনই হচ্ছে যখন বেইজিং এ অলেম্পিক উদযাপিত হচ্ছে যার শ্লোগান হচ্ছে “এক পৃথিবী এক স্বপ্ন”। গতকালও দেখলাম অলেম্পিকে রাশিয়ান এথেলেট জর্জিয়ান এথেল্যাটকে চুম্বন দিচ্ছে। এর মানে সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। কিন্তু আমি যেটা বুঝিনা সেটা হচ্ছে বড় বড় পরাশক্তিরা যখন নাচতেই নেমেছে তখন গায়ে কাপড় থাকার স্বার্থকতাটি কোথায়?

অনুভূতিহীন ভাবে বোঝার চেষ্টা করছি কোথাকার পানি কোথায় গড়াচ্ছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কি যুদ্ধ লেগে যেতে পারে?


সেনাবাহিনী এবং রাজনীতিবিদরা যখন মুখোমুখি দোষটি তখন কার?

August 7, 2008

 

একটি প্রবাদ আছে “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই”। প্রবাদটি যেমন সত্য তার চেয়ে বেশী সত্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রবাদ হচ্ছে “আমরা ভবিষ্যত জানি না এবং অতীত থেকে শিক্ষা নেই না”। আমরা যদি একটু অতীতে ফিরে যাই তাহলে আমাদের ইতিহাস একটি জাতী হিসেবে আরকটি জাতীর চেয়ে অভিন্ন নয়। দেশের রক্ষক এবং পরিচালক যখন মুখোমুখি অবস্থান করে তখন একটি দেশে গনতন্ত্র যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিতে পারে না তেমিন উন্নয়নও সম্ভবপর হয় না। সেই ৭১ এ আমরা আবার ফিরে যাই। ৭১ এ বর্বতার হর্তাকর্তা ছিলো সেই সেনাবাহিনীর কর্তা ব্যাক্তিরাই। চলে যাই ৭২ এ, রাজনৈতিক নেতারা ভিনদেশী স্বার্থ রক্ষার জন্য জনগনের আশা আকাংখাকে পাশ কাটিয়ে জনগনের তাদের হাত, মুখ এবং চোখে যে কালো কাপড় বেধে দিয়েছিলো সেটুক বাদ দিলেও একটি গনতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দিতে পেরেছিলো। ৭৫ এ চলে আসি। ৭৫ এর আগষ্ট বিপ্লব ট্রাজিডি হলেও সবথেকে নির্মম সত্য হচ্ছে এর হর্তাকর্তারার সেনা কর্মকতা। তার চেয়ে বড় দূর্ভাগ্যের বিষয় এরা মুক্তিযোদ্ধাও। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। তদান্তীন সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌ-বাহিনী প্রধানরা খন্দকার মোশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রর্দশন করে এই হত্যাকান্ডের অনূমোদন দিয়েছিলো। জেলখানাতে চার নেতার মৃত্যু ঘটে এই সেনাবাহিনীর আলতো ট্রিগ্রারের ছোঁয়ায়। খালেদ মোশাররফের হত্যাকান্ডও ঘটে সেনা সদস্যদের হাতে। কর্নেল তাহেরের একই পরিস্থিতি। মেজর জেনারেল মঞ্জুর কর্তৃক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে প্রাণ হারাতে হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের হাতেই।  বিচারপতি আব্দুস সাত্তার আসলেন। নির্বাচিত হয়ে আসা এই বৃদ্ধ মানুষটিকে রাইফেলের বাট দেখিয়ে দমিয়ে দিলো সেই সেনাবাহীনিই। ১১ই জানুয়ারীতেও  ২০০৮ এও একই কর্ম সম্পাদিত হলো সেই সেনাবাহিনী দ্বারাই। তার মধে আবার এই ক্যু এর আর একটি রি ক্যু করতে গিয়ে জেনারেল মাসুদ এখন গৃহবন্দী। এই সময়টুকুর মধ্যে রাজনীতিবিদদের ভুলগুলোর অন্যতম ছিলো ৭৫ এর বাকশাল কায়েম করা। এছাড়া তেমন কোন কারণ ছিলো না যেখানে গনতান্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়াটা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য কষ্টকর হয়ে পরে। একথাগুলো বলার কারন হচ্ছে মঈন ইউ খানের ভাষ্যমতে সেনাবাহিনীর জরুরী অবস্থা জারীর (আই ওয়াশ্ড বাই ইয়াজুদ্দীন আহমেদ) প্রধান করান ছিলো ২৮শে অক্টোবরের মতো রক্তপাত বন্ধ করে একটি নির্বাচন দেয়া। কিন্তু গদির মখমল যখন অতীতের মতো সেনাবাহিনীকে আবারও হাতছানি দেয় তখন মঈন ইউ খানরা সে লোভ সামলে উঠতে না পেরে নতুন এজেন্ডা রাজনীতিবিদ নিধনে মিশন একমপ্লিশড করতে উঠে পরে লাগেন। বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিতে না পারার জন্য রাজনীতিবিদরা যেমন দায়ী সেই দায়টি সেনাবাহিনীও এড়াতে পারেনা। এ যখন হয় অবস্থা তখন আমার বলতে হয় ‘হু এল্স টু ব্লেইম?’
ভিন্ন বিবেচনায় আরো একটি বিষয় সামনে আসতে পারে তা হচ্ছে ধর্ম “ইসলাম”। ৭১ যেমন ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এখন সেই রুপে ইসলামকে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বিধেয় ভিনদেশীরা আমাদের গর্বের বিষয় যে সেনাবাহিনী তাকে আজ ব্যবহার করছে। কারন মুসলিম দেশগুলোর গনতান্ত্র র্চচায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন। আলজেরিয়া এবং তুরস্কতে আমরা এধরনের অবস্থা দেখেছি যেখানে সেনাবাহিনী এবং রাজনীতিবিদরা মুখোমুখি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

চোখের সামনে যে চরম নির্লজ্জতা; আমাদের সাধুদের কি হবে?

August 1, 2008

একবার ভেবে দেখুন। একটি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সংগঠক ভিন্ন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পেটাচ্ছে। সেই সুত্র ধরে সেই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটা জামাতি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। বিষয়টা এমন যেন, যে মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামী এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাভাবাপন্ন, স্যাকুলারিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা বাংলাদেশে দেখতে চায়না সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কোন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন করার অধিকার নেই। এখান থেকেই পরিস্কার একটি সরল রেখা টানা সম্ভব। মুক্তিযোদ্ধারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত কিন্তু এর দায়- দায়িত্বের আঙুলটি গিয়ে পরছে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর উপর। বিবেক যাদের আছে তারা সকলেই বুঝতে সক্ষম যে মুক্তিযোদ্ধাদেরও রাজনৈতিক চাহিদা রয়েছে আর দশটি সাধারন মানুষের মতোই। প্রশ্ন করা যেতে পারে এই রাজনৈতিক বিবেচনায় যেখানে একজন দলীয় কর্মী ভিন্ন দলীয় কর্মীকে রাস্তায় সাপ মারার মতো মেরে ফেললেও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কলংকিত হয়না সেখানে কি দুই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন হাতাহাতি মারামারি করেলে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কি প্রশ্নবিদ্ধ হবে? এদের সকলেরই এক একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে। সেই বিবেচনায় যদি কোন দলের কর্মী কাউকে দু-কথা শুনিয়ে দেয় তবে কি মুক্তিযুদ্ধ অশুদ্ধ হয়ে যাবে? এদের কি যুদ্ধাপরাধী বলে স্লেশাত্মক গালী দেয়া যাবে? মজার ব্যপার হচ্ছে বামপন্থি দলগুলো বিভিন্ন সভা, সেমিনারে বিবৃতির মাধম্যে এই শেষ কাজটিই করে বেড়াচ্ছে। সাধুদের মিডিয়া পার্টনার ইটিভি এ ব্যপারে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। মিথ্যাচারের দিক থেকে এরা উর্দ্ধে। মিথ্যাবাদীতার ব্যরোমিটারে এদের মিথ্যে মাপা সম্ভব নয়। কথিত ইটিভি চারুকলা, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ জায়গায় অবাঞ্চিত। রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করতে করতে আমারা এমনই করুন সময়ে অবতীর্ন হয়েছি যেখানে আমাদের দেখতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি অবস্থান। অনেকে হয়তো আমাকে হুমায়ুন আযাদের মুক্তিযোদ্ধা রাজাকারের সংজ্ঞা শুনিয়ে দিতে কী-বোর্ডের উপর হুমরি খেয়ে পড়বেন। সাবধান! ভুলেও একাজটি করা ঠিক হবেনা। কারন এ সংজ্ঞা যদি যর্থাতও হয় তবে শুধু আলী আমন নয় সকল মুক্তিযোদ্ধাই এর আওয়তায় পরতে পারেন কিন্তু এযুগে যারা ইসলামী চিন্তাভাবাপন্ন তারা কিন্তু রাজাকার প্রমানিত হবেন না। এর থেকে বড় ব্যর্থতা ইসলাম বিরোধীদের আর কি হতে পারে? ওয়াট সুড নেকস্ট? আমি জানি তবুও উনাদের মাথা খুলবে না। মুক্তিযুদ্ধের দর উনার কষাকষি করেই যাবেন। যার ফল হবে ভয়ানক। তখন একটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নয় বরং হাজারটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ হবে। মুখোমুখি না হয়ে তারা কাঁধে কাঁধ মেলাবে। আর ইসলাম বিরোধীদের খোদাদ্রোহী কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দিবে। যার পথ খুলে দিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ তথা রাষ্ট্রে ইসলাম বিরোধী শক্তির জন্য একটি প্রচির তৈরী করার কাজ শুরু করেছে। আর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ যদি জামায়াত সমর্থিত হয়েই থাকে তবে বিষয়টি আরো ভয়ানক কারণ এ কথাটি দিবালোকের মতোই সত্য যে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধারা পরবর্তী পরিস্থিতে জামায়তের সর্মথক ও কর্মী হিসেবে কাজ করছে। সাধু যদি বুদ্ধিমান হয় তবে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য চাটি মারার প্রয়োজন পরবেনা। অবশ্যই নৈতিকতার অবক্ষয়রোধে ধর্ম অপরিহার্য।


বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত কিচ্ছা এবং বাংলাদেশীদের “দাদা নমস্কার নীতি”

July 22, 2008

 

আমাদের সীমান্তে ভারতীয়দের নোংরামি নতুন কিছু নয়। এটি একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। হান্নান সরকার আর কৃষ্ণপদ দাসের মৃত্যও তেমনি নতুন কোন ঘটনা না।  যারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরে ইন্দো-পাক ওয়ার হিসেবে তারা বাংলাদেশ নামক একটি ভূ-খন্ডকে তাদের একটি অঙ্গ রাজ্য বিবেচনা করে যদি ৬ মাসে ৮০ জনকে জন কাতেল করে যায়, আমাদের সমুদ্রসীমায় ঢুকে তেল গ্যাস সন্ধান করে যায়, দেশের উত্তর – পশ্চিমাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করে, তাতে কি ভারতের দূর্নাম হবে? এটা কি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নয়? উহু মোটেও না বরং বানরমুখো আম্রিকান “ঝোপ” ওয়ালা আর আফ্রিকান বংশদ্ভুত পরচুলা লাগানো মহিলা পরগাছাটা সন্ত্রাস দমনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মনমোহন সিং এর ইকনোমিক্যাল কানন্ট্রিটার সাথে নতুন নতুন সম্পর্ক গড়বে। উহা কি দৈহিক নাকি চুক্তি স্বাক্ষর সে ব্যাপারে আমার চেয়ে ভাল উনারাই বলতে পারেবন।

আমি আর “দাদা”দের নিয়ে কি বলবো বরং আমি আমার দেশের জগৎশ্ঠে ওরফে সুশিল ওরফে মানবতার বন্ধুদের নিয়েও কিছু বলার যোগ্যতা রাখিনা। তারপরেও গত কয়েকদিরে পত্রিকা খুললে যেটা দেখা যায় সেটা মানুষ হিসেবে আমাকে লজ্জিত করে। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের মতো এড়িয়াতে আমাদের স্বাধীনতার হকদার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বিএসএফ কর্তৃক বিডিআর হত্যার প্রতিবাদের মিছিলে হামলা চালায়। মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানকে কারো মনে আছে কিনা জানি না। সেই রৌমারী হিরো যিনি “দাদা নমস্কার নীতি” থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছিলেন কিন্তু বেড়িয়ে আসলে হবে কি তাকে আমাদের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্সি আজকাল রাজাকার বলেন। ইন্টারপোলের হিসেবে নাকি বাংলাদেশী আপরাধীদের সিংহভাগ অপরাধীই ভারতে রাষ্ট্রীয় অতিথী হিসেবেই আছেন। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের সেই সকল কৃতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে বর্তমানে পরিচিত নেতাদের মতো তারা তাসে তুরপ মারাতে বা উইস্কির বোতল নিয়ে বসে না থেকে সেখানে ব্যবসা করছেন। ভারত সরকারের অনুগ্রহ নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। সেই সাথে আমাদের বঙ্গ সন্তানদেরও। বাংলাদেশে ৬৭০টিরও অধিক রেজিস্ট্রিকৃত মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন আছে। সেক্টর কমান্ডাররা আছ্নে। কয়েকদিন আগে যারা একজন ইরেগুলার ফ্রিডম ফাইটারের পশ্চাদে লাথি মারাকে কেন্দ্র করে ২য় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করার ঘোষণা মিনিটে মিনিটে দিচ্ছেন তাদের কাউকে টু শব্দটি করতে দেখা যায়নি। কারন হচ্ছে উনারা ৭১ এ কে রাজাকার ছিলো আর কে আল- বদর ছিলো তা নির্নয় করছেন, তাদেরকে বিচার নামক প্রহসন করার জন্য সভা সেমিনারে ব্যস্ত উনারা। এখন দরকার রাজাকার বিচারের নামে জাতিকে বিভক্ত করা। আমি জানিনা তাদের এই বালখিল্যতার কারনটি কি? কারন আমি খুজতে চাইনা। আমার ভয় হচ্ছে উনার না আবার বলে বসেন ৩০ লাখ মারা না যাওয়া পর্যন্ত চেতনা জাগ্রত হয় না!  বিষয়টি যেন এমন ৯ মাসে ৩০ লাখ আর ৬ মাসে ৮০ জন এইটা কোন বিষয় হইলো। ভারত আগে ৩০ লাখ ১জন (৩০০০০০১) মেরে নেক পরে দেখা যাবে।

তাদের এ সকল খিস্তি খেউর আমার কাছে বি এস এফর গুলির মতোই মনে হয়। দেশের জন্য ভালবাসা দেয়া ছাড়া আমার এখনো কিছু দেয়ার সুযোগ হয়ে উঠেনি তাই বলবো

“সবুজে শ্যামলে আঁকা থোকা থোকা জুঁই
নাও, নদী, ঢেউ, জল, দেবনা কিছুই
উজাড় দু হাত জুড়ে শোধ দেব ঋণ
দেবনা সীমানা ছেড়ে ইঞ্চি জমীন…”

এতোটুকু দায়বদ্ধতা থেকেই এই লেখা যে দায়বদ্ধতাটুকু আমাদের মুখের সামনে লাউড স্পীকার নয়ে বসে থাকা গোঁফ বা চশমাধারী উপাধিয়ালাদের নেই। প্রবালকে কাছে পেলে জিজ্ঞাসা করতাম “তুই প্রায়ই বলতি তুই যতটা না বাংলাদেশকে ভালবাসিস তার চেয়ে বেশী ঘৃনা করিস ভারতকে” এটা তু্ই কেন বলতি?